খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার (FIFA) শীর্ষ পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এক দশক পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইনফান্তিনো সভাপতি হিসেবে তাঁর দশম বছর পূর্ণ করেন। এই মাইলফলক স্পর্শ করায় তাঁকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্পের মতে, ইনফান্তিনো একজন অসাধারণ নেতা এবং তিনি আশা করেন যে ইনফান্তিনো কেবল আগামী কয়েক বছর নয়, বরং আরও ১০, ২০ এমনকি ৩০ বছর পর্যন্ত ফিফার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফা সভাপতি হওয়ার পথটি ছিল নাটকীয়। ২০১৫ সালে ফিফায় দীর্ঘদিনের দুর্নীতির কেলেঙ্কারি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে নিষিদ্ধ হন উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনিও। এই চরম সংকটের মুহূর্তে ২০১৬ সালে উয়েফার তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল ইনফান্তিনো ফিফার হাল ধরেন। তাঁর অধীনে ফিফা আর্থিক স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন।
সেপ ব্লাটারের ১৭ বছরের একচ্ছত্র শাসনের পর ফিফা কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, কোনো ব্যক্তি তিন মেয়াদের (সর্বোচ্চ ১২ বছর) বেশি সভাপতি থাকতে পারবেন না। তবে ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ আইনি ব্যাখ্যা তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করেছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সময় ফিফা কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় যে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ইনফান্তিনোর প্রথম মেয়াদটি ‘অসম্পূর্ণ’ ছিল, তাই এটি ১২ বছরের মেয়াদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়বে না। এর ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ২০৩১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
নিচে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফা ক্যারিয়ারের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| সময়কাল | পদের নাম/ঘটনা | মন্তব্য |
| ২০০৯ – ২০১৬ | উয়েফা সেক্রেটারি জেনারেল | ইউরোপীয় ফুটবলের প্রশাসনিক দায়িত্ব। |
| ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | ফিফা সভাপতি (প্রথমবার) | সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত। |
| ২০১৯ – ২০২৩ | ফিফা সভাপতি (দ্বিতীয় মেয়াদ) | সর্বসম্মতিক্রমে পুনর্নির্বাচিত। |
| ২০২৩ – ২০২৭ | ফিফা সভাপতি (চলমান মেয়াদ) | ফিফার সংস্কার ও সম্প্রসারণে গুরুত্ব। |
| ২০২৭ – ২০৩১ | সম্ভাব্য চতুর্থ মেয়াদ | আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটিই হবে শেষ মেয়াদ। |
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে সুসম্পর্কের মূলে রয়েছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টটি ফুটবলের ইতিহাসে বৃহত্তম আসর হতে যাচ্ছে। এই আয়োজনের সূত্র ধরেই ট্রাম্পের সাথে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত ও পেশাদার সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। ট্রাম্প তাঁকে আরও ৩০ বছর ফিফায় দেখতে চাইলেও বর্তমান ফিফা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০৩১ সালের পর তাঁর আর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব ক্রীড়া রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে—অনেকেই মনে করছেন এটি কি ফিফার সংবিধানে আরও পরিবর্তনের কোনো আগাম ইঙ্গিত, নাকি স্রেফ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সদিচ্ছা?
আপাতত আইনি সীমাবদ্ধতা থাকলেও, ইনফান্তিনোর অধীনে ফিফা যেভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজেদের মেলে ধরছে, তাতে তাঁর প্রভাব যে আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে তা বলাই বাহুল্য।