খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে আকস্মিক ও সমন্বিত সামরিক হামলার পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যৌথভাবে এই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার পেছনে সৌদি আরবের পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের অভিন্ন কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছে।
রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানে হামলা শুরুর কিছুক্ষণ আগে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিরাপদ স্থানে তার দুই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা—আলি লারিজানি ও আলি শামখানি–এর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। ঠিক সেই সময় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই খামেনির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নাকি সতর্ক করে বলেন, ইরানের প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে; তা প্রতিহত করতে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
একই সময়ে যুবরাজের ভাই খালিদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অনুরূপ অবস্থান তুলে ধরেন বলে জানা গেছে। সৌদি নেতৃত্ব ইরানকে তাদের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে—এ তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
| পক্ষ | প্রকাশ্য অবস্থান | গোপন বা কূটনৈতিক বার্তা |
|---|---|---|
| সৌদি আরব | ইরানে হামলার বিরোধিতা, আকাশসীমা ব্যবহার না করার ঘোষণা | ইরানের প্রভাব ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে |
| ইসরায়েল | ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান | সামরিক সমন্বয়ের উদ্যোগ |
| যুক্তরাষ্ট্র | আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ঘোষণা | সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি |
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের বিশ্লেষণে সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে “মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মার্কিন মিত্র জুটি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থ ইরানবিরোধী অবস্থানে একত্রিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযানে উৎসাহিত করেছে।
এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে। এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সামরিক সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতেই পরিবর্তন আনবে না, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি আরব, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমন্বিত অবস্থান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক জোটরাজনীতিকে নতুন রূপ দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।