খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে রহিম মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। দুর্ঘটনাটি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল সময় আখাউড়া রেল সেকশনের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ আউটার এলাকায় সংঘটিত হয়।
নিহত রহিম মিয়া কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল এলাকার আবুল হাসেম মিয়ারের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি সকালে মন্দবাগ রেললাইনের পাশে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন তার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়। দুর্ঘটনার প্রভাবে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। রেলওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এসএম সফিকুল ইসলাম এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “নিহত ব্যক্তি হঠাৎ করে ট্রেনের নিচে পড়ে যান। এ দুর্ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, মন্দবাগের রেললাইন এলাকায় প্রতিদিনই অনেক মানুষ হেঁটে যান। তবে কখনও কখনও ট্রেন চলাচল এবং পথচারীর অসচেতনতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইন এলাকায় সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
নিহতের পরিচিতজনরা বলেন, রহিম মিয়া একজন শান্তপ্রিয় এবং পরিবারপরায়ণ মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকার মানুষ শোকাহত। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
ঘটনার সময়সূচি সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| তারিখ | সময় | স্থান | ঘটনা |
|---|---|---|---|
| ৩ মার্চ | সকাল | মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন দক্ষিণ আউটার | রহিম মিয়া হেঁটে যাচ্ছিলেন; ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত্যু |
| ৩ মার্চ | দুপুর পৌনে ১টা | ঘটনাস্থল | রেলওয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পরিবারকে হস্তান্তর |
রেলওয়ে থানার ওসি বলেন, “নিয়মিতভাবে রেললাইনের পাশ দিয়ে চলাচলরত মানুষের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের অসচেতনতায় এখনও দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার চেষ্টা করছি।”
এই ধরনের দুর্ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত ঘটছে। বিশেষ করে শহরতলী ও গ্রামের সংযোগস্থলগুলোতে মানুষ রেললাইনের পাশে চলাচল করেন, যা বিপজ্জনক। অভিজ্ঞ রেলকর্মীরা মনে করেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রেললাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রেললাইনের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সবার সচেতনতা অপরিহার্য। একইসঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিদর্শন ও সতর্কতা জোরদার করবে।