খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দিনের বেলায় সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাবে, তবে রাতের দিকে আকাশ পরিষ্কার থাকায় তাপ দ্রুত বিকিরিত হয়ে তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কিছুটা বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। অন্যদিকে দেশের বাকি অংশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা মূলত নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে। বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ধরনের আবহাওয়াগত পরিস্থিতিতে আর্দ্রতার প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয়ভাবে মেঘ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পটুয়াখালীতে ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে স্পষ্ট যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার পার্থক্য উল্লেখযোগ্য রয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক তাপমাত্রা পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্বাভাসের সময়কাল | আগামী ২৪ ঘণ্টা |
| দিনের তাপমাত্রা | সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে |
| রাতের তাপমাত্রা | সামান্য হ্রাস পেতে পারে |
| বৃষ্টির সম্ভাব্য বিভাগ | ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট |
| দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (রাজশাহী) |
| দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা | ৩৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (পটুয়াখালী) |
| লঘুচাপের অবস্থান | পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন এলাকা ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর |
দিনের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে দুপুরের দিকে কিছু এলাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভোরের দিকে হালকা শীতল আবহ বিরাজ করতে পারে, বিশেষত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। কৃষিখাতে এর প্রভাব মিশ্র হতে পারে—একদিকে দিনের উষ্ণতা ফসলের বৃদ্ধিতে সহায়ক, অন্যদিকে হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন কিছু সবজি ও ফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাপমাত্রার এ পরিবর্তনের সময় শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান এবং রাতে হালকা উষ্ণ বস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, দেশের আবহাওয়া স্বাভাবিক ঋতুচক্র অনুযায়ী পরিবর্তিত হচ্ছে। তাপমাত্রার সামান্য ওঠানামা এবং বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।