খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন-এ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর। তবে, এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা সরকারিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা গত কয়েক সপ্তাহে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলিতভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর, জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এই প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে তথ্য সূত্রে জানা গেছে।
ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব শুধু আকাশে সীমাবদ্ধ নয়, সামুদ্রিক পথেও দেখা যাচ্ছে। পারস্য উপসাগরে এবং লোহিত সাগরে নৌপরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।
ফ্রান্সের পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো নিশ্চিত করেছেন, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ৫২টি ফরাসি জাহাজ আটকা পড়েছে। এছাড়াও লোহিত সাগরে আরও ৮টি জাহাজ অবস্থান করছে। তিনি জানান, “আমরা এই জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি, কারণ সেখানে বেশ কিছু ফরাসি নাবিক রয়েছেন।”
নীচের টেবিলে ফরাসি জাহাজ এবং তাদের অবস্থান সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| সমুদ্র অঞ্চল | জাহাজ সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| পারস্য উপসাগর | ৫২ | চলাচল সীমিত, ক্রু নিরাপদে |
| লোহিত সাগর | ৮ | পর্যবেক্ষণাধীন, সংযোগ রক্ষা |
বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের আঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিলম্ব ও বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ব্যাঘাত বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারে।
ফরাসি ও অন্যান্য বিদেশি নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে মারাত্মক প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে যে প্রায় ২০ শতাংশ অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলে, তা এই উত্তেজনার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনাগুলি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।