খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতদের গুলিতে এক জেলে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতের ঘটনা শনিবার বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি হলেন মো. হেদায়েতুল্লাহ (২২), ফকিরেরচর গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে হেদায়েতুল্লাহ তার চাচা চানু মিয়ার সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ একটি স্পিডবোট নৌকার কাছে থামলে, স্পিডবোটে থাকা পাঁচজন ডাকাত দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। আতঙ্কে দুইজনই নদীতে ঝাঁপ দেন। চানু মিয়া নিরাপদে তীরে ওঠলেও হেদায়েতুল্লাহ নিখোঁজ হন।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী অংশে তার লাশ ভেসে থাকতে দেখতে পান এবং তীরে নিয়ে আসেন। এরপর রায়পুরা থানার মির্জারচর নৌ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
নিহতের চাচা চানু মিয়া অভিযোগ করেন, “ডাকাতদের হঠাৎ হামলা আমাদের দিশাহারা করে দিয়েছিল। আমরা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলাম। তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। আমার ভাতিজার হত্যার সঠিক বিচার চাই।” স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন জানান, ডাকাতদের ছোড়া গুলি হেদায়েতুল্লাহর বাঁ কানে, ঘাড়ে ও গালে লেগেছিল।
হেদায়েতুল্লাহ দরিদ্র পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। রাতভর মাছ ধরেই তিনি সংসার চালাতেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | মো. হেদায়েতুল্লাহ |
| বয়স | ২২ বছর |
| ঠিকানা | ফকিরেরচর, শ্রীনগর ইউনিয়ন, রায়পুরা, নরসিংদী |
| সহযাত্রী | চানু মিয়া (চাচা) |
| হামলার ধরন | স্পিডবোটে সশস্ত্র ডাকাতের গুলি |
| ডাকাত সংখ্যা | ৫ জন |
| লাশ উদ্ধার সময় | শুক্রবার রাত ১২ ঘটিকা ঘটনার পর, শনিবার বিকেল ৫:৩০ ঘটিকা |
| আহত স্থান | বাঁ কান, ঘাড়, গাল |
| স্থানীয় পুলিশ | মির্জারচর নৌ ফাঁড়ি, রায়পুরা থানা |
| ময়নাতদন্তের স্থান | নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গ |
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান জানান, মৃত জেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নৃশংস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিরাপত্তাহীনতা এবং নদীতে রাতভর মাছ ধরা মানুষের ওপর হামলার বিষয়টি এলাকার জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।