খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন গত কয়েক মাস ধরে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। বিসিবি (BCB) বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট যেমন—বিসিএল ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি আয়োজন করে খেলা মাঠে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, ক্লাব ক্রিকেটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিশাল অচলাবস্থা। বিশেষ করে বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে অধিকাংশ ক্লাবের বয়কট কর্মসূচির ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ছেলেদের লিগের সংকটের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দেশের নারী প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নারী প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার পেছনে কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব দায়ী নয়, বরং খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে নতুন জটিলতা। সম্প্রতি বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততার কারণে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এবার ঘরোয়া প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব আবাহনীসহ মোট তিনটি ক্লাব লিগে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের ছাড়া লিগ আয়োজন করলে তা কেবল জৌলুস হারাবে না, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানও তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।
নিচে ঢাকা লিগের বিভিন্ন স্তরে ক্লাবগুলোর বর্তমান অংশগ্রহণের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| লিগের স্তর | মোট ক্লাবের সংখ্যা | অংশগ্রহণকারী ক্লাবের সংখ্যা | বর্জনকারী ক্লাবের সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা |
| প্রথম বিভাগ (ছেলেরা) | ২০টি | ১২টি | ০৮টি | আংশিক চলমান |
| দ্বিতীয় বিভাগ (ছেলেরা) | ২৪টি | ১২টি | ১২টি | চরম অনিশ্চয়তা |
| নারী প্রিমিয়ার লিগ | ০৯টি | ০৬টি (প্রাথমিক সম্মত) | ০৩টি (আবাহনীসহ) | সভা স্থগিত |
বিসিবির এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তৃণমূল ও উদীয়মান নারী ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের ওপর নির্ভর করেই অনেক নারী ক্রিকেটার সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেন। লিগ অনুষ্ঠিত না হলে তাদের আর্থিক ও পেশাদার জীবন হুমকির মুখে পড়বে। বিসিবির পরিকল্পনা কেবল জাতীয় দলের গুটিকয়েক খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
এদিকে এপ্রিলের শুরুতে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক নারী বিপিএল বা ডব্লুবিপিএল আয়োজনের ঘোষণা দিলেও সেখানেও প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্ট। বিসিবি তিনটি দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সব ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে পারেনি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের স্বত্বাধিকারী নাবিল গ্রুপ এবং চট্টগ্রামের কন্টিনেন্টাল গ্রুপ আগ্রহ দেখালেও তৃতীয় দলটির মালিকানা নিয়ে এখনো কোনো ফয়সালা হয়নি। আগ্রহ প্রকাশের সময়সীমা ৪ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ৮ মার্চ করা হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের এই সংকট নিরসনে বিসিবি এবং ক্লাবগুলোর মধ্যে দ্রুত একটি সমঝোতা প্রয়োজন। অন্যথায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ফিরলেও দেশের ক্রিকেটের মূল ভিত্তি বা পাইপলাইন হিসেবে পরিচিত ক্লাব ক্রিকেট চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।