খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য শুধু জনপরিসর বা কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবারে ও ঘরে-ঘরে এই সমস্যা সমানভাবে বিদ্যমান। বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন মনে করেন, পরিবারিক ক্ষেত্রে যে ধরণের নির্যাতন, হয়রানি ও বৈষম্য ঘটে, সেগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রায়ই নীরব থাকেন। এই নীরবতা সমাজের জন্য ভয়ংকর সংকেত তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করেন। ‘আক্রমণ, বিদ্বেষ, আধিপত্যের বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভায় পরিবারের ভেতরের সহিংসতা ও সামাজিক অসাম্যের উপর আলোকপাত করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন এবং সামাজিক বিদ্বেষকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এর পেছনে সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোগত সংকটগুলোর চিহ্নিতকরণ জরুরি। তিনি আরও বলেন, “নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন অপরিহার্য।”
সভায় বক্তৃতা করেন কমরেড আক্তার বানু, কমরেড লাকি আক্তার ও মমতা চক্রবর্তী।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও নারীর ওপর প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চলতেই থাকে। যেকোনো দলের বা মতাদর্শের নারীর ওপর সহিংসতা আমরা আর দেখতে চাই না। আমাদের দায়িত্ব নারীর প্রতি অন্যায় বন্ধ করা এবং তাদের আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধমূলক ভূমিকা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা।”
কমরেড লাকি আক্তার আরও বলেন, “কিছু উগ্রপন্থী দল নারীর কাজের ঘণ্টা কমাতে চায়, অথচ আমরা চাই সমান মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ।” সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নারীবিষয়ক সম্পাদক মমতা চক্রবর্তী যোগ করেন, “নারীরা বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে জর্জরিত।”
অন্যদিকে, নারীর নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে নারী সংহতির আয়োজিত মুক্ত আলোচনায় ফরিদা আখতার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নারীর অবস্থার পরিবর্তন ঘটার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পর্যাপ্তভাবে হয়নি।
নিম্নে আলোচ্য বিষয় ও বক্তাদের সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| আলোচ্য বিষয় | বক্তা | প্রতিষ্ঠান/পদবী | মূল বক্তব্য |
|---|---|---|---|
| নারীর প্রতি সহিংসতা ও সামাজিক বিদ্বেষ | দীপ্তি দত্ত | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | নারীর প্রতি সহিংসতার কাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করা প্রয়োজন |
| পরিবারিক নির্যাতন ও নীরবতা | ব্যারিস্টার সারা হোসেন | আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী | পরিবারের ভেতরের সহিংসতা সমাজের জন্য সংকট |
| সমান মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ | কমরেড লাকি আক্তার | সিপিবি | নারী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে |
| বিচারহীনতা ও নাগরিক মর্যাদা | ফরিদা আখতার | সাবেক উপদেষ্টা, অন্তর্বর্তী সরকার | বাস্তবতায় নারীর স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা এখনও পর্যাপ্ত নয় |
সার্বিকভাবে এই দুইটি আলোচনা সভা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে যে, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধ করতে সামাজিক সচেতনতা, বিচারিক প্রক্রিয়ার শক্তিশালীকরণ এবং পরিবারের ভেতরের সমস্যার প্রতি নজর দেওয়াই এখন সময়োপযোগী চ্যালেঞ্জ।