খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তেলের ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশি টহল জোরদারের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পৃথক দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিপিসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোগুলো ‘কেপিআই’ (Key Point Installation) বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত। সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও ডিলারদের অতিরিক্ত চাহিদাকে কেন্দ্র করে এসব স্থানে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান বিপণন স্থাপনাগুলোতে চাপ বাড়ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডিপোগুলো থেকে তেল সংগ্রহের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন বলে বিপিসি মনে করছে।
নিরাপত্তার আওতায় থাকা প্রধান তেল ডিপোগুলোর তালিকা:
| ডিপোর নাম | অবস্থান | গুরুত্ব |
| প্রধান স্থাপনা | পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম | দেশের প্রধান জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ কেন্দ্র |
| দৌলতপুর ডিপো | খুলনা | দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সরবরাহ পয়েন্ট |
| বাঘাবাড়ি ডিপো | সিরাজগঞ্জ | উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র |
| গোদনাইল ও ফতুল্লা | নারায়ণগঞ্জ | ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র |
| পার্বতীপুর ডিপো | দিনাজপুর | উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র |
| বরিশাল ডিপো | বরিশাল | দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি মজুত কেন্দ্র |
বিপিসি জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেলের মজুত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা প্যানিক বাইয়িং বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ শুরু করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররাও স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি চাহিদাপত্র জমা দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপিসি ইতিমধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে তেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করায় ক্রেতা ও কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু জায়গায় অননুমোদিতভাবে ড্রাম বা কন্টেইনারে তেল মজুতের চেষ্টার খবরও পাওয়া গেছে। এই বিশৃঙ্খলা রোধে এবং কর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশি টহল জোরদার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া ঠেকাতে কঠোর প্রশাসনিক তদারকি প্রয়োজন। গুজব রোধে এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বিত সুরক্ষা পরিকল্পনা কার্যকরের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিপিসি মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং ডিলাররা কোনো অনৈতিক সুযোগ নিতে পারবে না।
বর্তমানে এই প্রস্তাবটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অনুমোদনের পর অতি দ্রুত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।