খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উৎসবকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদ উদ্যাপন এবং পরিবারের উৎসবের খরচ মেটাতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মাসের শেষ দিনগুলোর চূড়ান্ত তথ্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, প্রবাসীদের এই আয় প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে আরও জোরদার করেছে।
প্রবাসী রেমিট্যান্সের সাম্প্রতিক ধারা ও তুলনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে সর্বমোট ২৯৭ কোটি ৬১ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বাংলাদেশে এসেছে। বর্তমান দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী এই বৈদেশিক মুদ্রার আর্থিক মূল্যমান প্রায় ৩৬ হাজার ৩০৮ কোটি টাকার সমান। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ৩১৩ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। অন্যদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসবের মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় অর্জিত হয়েছিল। গত ডিসেম্বর মাস থেকে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তার বেশি প্রবাসী আয় আসার একটি সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক ধারা বজায় রয়েছে।
নিচে একটি সুবিন্যস্ত টেবিলের মাধ্যমে চলতি মাসে প্রবাসী আয় আহরণে দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের অবস্থান এবং বিগত মাসগুলোর রেমিট্যান্স প্রবাহের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো:
| রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ ব্যাংক | সংগৃহীত আয়ের পরিমাণ (মার্কিন ডলারে) | বিগত মাসসমূহ | অর্জিত প্রবাসী আয় (মার্কিন ডলারে) |
| ইসলামী ব্যাংক | ৫৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলার | গত ডিসেম্বর | ৩২২ কোটি ডলার |
| ব্র্যাক ব্যাংক | ৩৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার | গত জানুয়ারি | ৩১৭ কোটি ডলার |
| ট্রাস্ট ব্যাংক | ২৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার | গত ফেব্রুয়ারি | ৩০২ কোটি ডলার |
| অগ্রणी ব্যাংক | ২১ কোটি ডলার | গত মার্চ (ঈদুল ফিতর) | ৩৭৫ কোটি ডলার (সর্বোচ্চ রেকর্ড) |
| পূবালী ব্যাংক | ১৩ কোটি ৭৪ লাখ ডলার | গত এপ্রিল | ৩১৩ কোটি ডলার |
ব্যাংকভিত্তিক বিবরণ ও অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামী ব্যাংক’ নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে এই ব্যাংকটির মাধ্যমে সর্বমোট ৫৩ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ‘ব্র্যাক ব্যাংক’, যারা এই সময়ে ৩৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া ২৬ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় আহরণ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘ট্রাস্ট ব্যাংক’। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের প্রধান ব্যাংক ‘অগ্রণী ব্যাংক’ ২১ কোটি ডলার এবং বেসরকারি খাতের ‘পূবালী ব্যাংক’ ১৩ কোটি ৭৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এনেছে।
সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ১০ মাসে সর্বমোট ২ হাজার ৯৩৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বাংলাদেশে এসেছে। এর বিপরীতে বিগত সম্পূর্ণ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় অর্জিত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক কর্মকর্তাদের মতে, উৎসবের মৌসুমে প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে তারল্য সংকট নিরসনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।