খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে প্রতিপাদ্য করে ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নতুন ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৮ মে) থেকে এসব নতুন নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে ইস্যু কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য শাখা অফিস থেকেও এসব নোট ইস্যু করা হবে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিসিপি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন নোটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সংবলিত থাকবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রশাসনিক স্বাক্ষর ব্যবস্থার আওতায় এসব নোট বাজারে ছাড়া হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এর আগে একই সিরিজে প্রচলনে আসা ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের নোটগুলোও পর্যায়ক্রমে নতুন গভর্নরের স্বাক্ষরসহ ইস্যু করা হবে। এর ফলে বাজারে বর্তমানে প্রচলিত এবং নতুন স্বাক্ষর সংবলিত উভয় ধরনের নোটই একসঙ্গে প্রচলনে থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নোটগুলোর রং, আকৃতি, নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ নোটগুলোর সামগ্রিক ডিজাইন পূর্বের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শুধু গভর্নরের স্বাক্ষর পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন ইস্যু কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য নোট শনাক্তকরণ বা লেনদেন ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিভ্রান্তির আশঙ্কা নেই বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রা বৈধ ও চালু থাকবে। নতুন নোট বাজারে আসার কারণে পুরোনো নোটের বৈধতা বা গ্রহণযোগ্যতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। ফলে ব্যাংকিং লেনদেন, বাজার লেনদেন কিংবা সাধারণ আর্থিক কার্যক্রমে বিদ্যমান নোট ও মুদ্রা স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করা যাবে।
‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক এই নোট সিরিজ দেশের ঐতিহ্য ও স্থাপত্য নিদর্শনকে তুলে ধরার একটি ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের চিত্র সংবলিত এসব নোট দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়ের একটি প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত নতুন গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার স্বাক্ষর সংবলিত নতুন নোট বাজারে ছাড়ে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচলিত প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমের অংশ। একই সঙ্গে নতুন নোট ইস্যুর মাধ্যমে বাজারে প্রয়োজনীয় মুদ্রা সরবরাহের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা হয়।
নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, জাল নোট প্রতিরোধে বিদ্যমান নিরাপত্তা প্রযুক্তি বহাল রয়েছে। ফলে নতুন নোটগুলোতে প্রচলিত নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, রঙ পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য সুরক্ষা উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমকে জাতীয় স্বার্থে এ তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারের অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে সাধারণ জনগণ নতুন নোট ইস্যু সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং নোটের বৈধতা নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
নতুন ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকার নোট ইস্যুর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন ঘটিয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শাখা অফিস থেকে এসব নোট সরবরাহ শুরু হলে সারা দেশে নতুন নোটের প্রচলন আরও বিস্তৃত হবে।