খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এক বিশেষ সামরিক অভিযানে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী চারটি ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই অভিযান মার্কিন প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ওপর এক বড় ধরনের আঘাত।
ইরানের সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে যে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘প্রিসিশন-গাইডেড’ বা নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম মিসাইল ব্যবহার করেছে। রাডারগুলো ধ্বংস হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় বা শিল্ড সাময়িকভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইআরজিসি-র মতে, এই রাডারগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের গতিবিধির ওপর নজরদারি এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার পরিকল্পনা করছিল।
টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড হলো মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ। এটি এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতরে এবং বাইরে—উভয় স্তরেই ধেয়ে আসা স্বল্প, মধ্যম এবং অন্তর্বর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর রাডার, যা কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুর মিসাইল শনাক্ত করতে সক্ষম। রাডার ধ্বংস হওয়ার অর্থ হলো পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি অন্ধ হয়ে যাওয়া।
মার্কিন থাড ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
| বৈশিষ্ট্যের নাম | বিবরণ |
| পূর্ণরূপ | টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স |
| মূল কাজ | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করা |
| রাডারের ধরণ | এএন/টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাডার |
| ধ্বংসের পদ্ধতি | কাইনেটিক এনার্জি (সরাসরি ধাক্কা দিয়ে ধ্বংস করা) |
| আক্রমণের শিকার | গত ২৪ ঘণ্টায় ৪টি রাডার ইউনিট |
ইরানের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদি আইআরজিসি-র এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা মার্কিন প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, থাডের মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস করা অত্যন্ত জটিল কাজ, কারণ এই ব্যবস্থাগুলো সাধারণত ড্রোন বা মিসাইল হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য উচ্চতর সুরক্ষা স্তরে থাকে। ইরানের এই ‘প্রিসিশন-গাইডেড’ মিসাইল ব্যবহারের সক্ষমতা প্রদর্শন মূলত ওয়াশিংটনকে একটি কঠোর বার্তা প্রদানের কৌশল।
এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকারমূলক বক্তব্য আসেনি। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই অঞ্চল এখন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে পারে অথবা সরাসরি কোনো প্রতিশোধমূলক অভিযানে লিপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওমান, কাতার ও তুরস্কের মতো দেশগুলো উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও যুদ্ধের দামামা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্ডে এই ফাটল ধরার দাবি যদি সত্য হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে সংঘাতের ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে।