খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
রাজধানীতে আলোচিত শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিযাত্রী দল ১৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। স্থানীয় আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবিবার উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গোপন নজরদারি চালানোর পর শনিবার গভীর রাতে একটি অভিযানে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা সম্ভব হয়।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গোপন সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পারে যে বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে এবং পরে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছে। তারা সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকায় গোপনে অবস্থান করছিল। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই অভিযাত্রী দল এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি রাহুল নামেও পরিচিত, এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তারা প্রথমে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করে। পরে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় আসে। সেখানে সীমান্ত পার হওয়ার প্রস্তুতির সময়ই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।
ভারতের একটি সংবাদ সংস্থা তাদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ অভিযাত্রী দল বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
এদিকে বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেখানে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল হতে পারে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ একটি ছাত্রসংগঠনের সদস্য ছিলেন এবং ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, এই মামলায় অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর প্রায় দুইটার দিকে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হামলাকারী খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে বিমানযোগে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগীর নাম | শরিফ ওসমান হাদি |
| হামলার তারিখ | ১২ ডিসেম্বর |
| হামলার স্থান | রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকা |
| প্রধান আসামি | ফয়সাল করিম মাসুদ |
| সহযোগী | আলমগীর হোসেনসহ মোট ১৭ জন |
| গ্রেপ্তারের স্থান | বনগাঁও সীমান্ত এলাকা, পশ্চিমবঙ্গ |
| বর্তমান অবস্থা | ১৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।