খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ ক্ষতির প্রভিশন নির্ধারণের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলিকে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতি আগেভাগেই হিসাব করতে হবে, যাতে যথাযথ প্রভিশন নিশ্চিত হয় এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি IFRS 9 ভিত্তিক Expected Credit Loss (ECL) প্রভিশনিং ফ্রেমওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দিয়েছে। এটি দেশের ব্যাংকিং খাতকে আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নতুন নিয়ম ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সকল শিডিউলড ব্যাংকের তহবিলযুক্ত ও অ-তহবিলযুক্ত ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। পরবর্তী পর্যায়ে, ২০২৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য আর্থিক যন্ত্রের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে ব্যাংকগুলি BRPD Circular No. 15 of 2024 অনুযায়ী incurred-loss মডেল ব্যবহার করে ঋণ শ্রেণিবিন্যাস ও প্রভিশন নির্ধারণ করে। নতুন প্রভিশনিং পদ্ধতিতে ব্যাংকগুলোকে forward-looking মডেল গ্রহণ করতে হবে, যেখানে সম্ভাব্য ক্ষতি পূর্বানুমান করে প্রভিশন নির্ধারণ করতে হবে।
একজন অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা জানান, “এটি পুরনো incurred-loss পদ্ধতির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখন থেকে ব্যাংককে ঋণ সমস্যার আগে সম্ভাব্য ক্ষতি অনুমান করতে হবে। এর জন্য দেশীয় অর্থনৈতিক সূচক যেমন মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার ও অন্যান্য সূচক বিবেচনা করতে হবে।”
IFRS 9 অনুযায়ী ঋণ তিনটি ধাপে ভাগ করা হবে:
| ধাপ | ঋণ শ্রেণি | প্রভিশন নির্ধারণের পদ্ধতি |
|---|---|---|
| ১ | Performing loans | ১২ মাসের Expected Credit Loss |
| ২ | Significant risk increase | লাইফটাইম Expected Credit Loss |
| ৩ | Credit-impaired loans | লাইফটাইম প্রভিশন |
নতুন কাঠামোতে ব্যালেন্স-শীটের বাইরে থাকা ঋণ কমিটমেন্ট, গ্যারান্টি এবং অপ্রয়োগকৃত ক্রেডিট লাইনও প্রভিশনে অন্তর্ভুক্ত হবে। পাশাপাশি, সুদের আয়ের স্বীকৃতি ঋণ ধাপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, যা ব্যাংকের সম্পদ মান এবং আয়ের আরও সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করবে।
ব্যাংকগুলিকে উন্নত ডেটা অবকাঠামো ও রিস্ক-মডেলিং সিস্টেম স্থাপন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত তদারকি এবং নির্দেশনা প্রদান করবে, যাতে রূপান্তর প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
NRBC ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ তৌহিদুল আলম খান বলেন, “IFRS 9 এবং ECL ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য যুগান্তকারী। এটি শুধুমাত্র নিয়মকানুন পরিবর্তন নয়, বরং ব্যাংকের আর্থিক শক্তি, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সফল বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা, প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং দক্ষ কর্মীবৃন্দের প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যাংকিং খাতকে আরও স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করবে।”