খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ সোমবার (৯ মার্চ) সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত তদন্তের আওতায় ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই আদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর আবেদনকে অনুমোদন করে জারি করা হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা আদালতে আবেদন জমা দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিটি ব্যাংক পিএলসির সাবেক কর্মকর্তা শেখ মো. ওয়াজিহ উদ্দিন অনলাইনে প্রতারণার শিকার হয়ে ৫টি হিসাবের মাধ্যমে মোট ৫১ লাখ ১২ হাজার টাকা জমা প্রদান করেছিলেন।
অর্থসংক্রান্ত তদন্তে আরও দেখা গেছে যে, আবেদনের সঙ্গে জড়িত এসএম জুনাইদুল হক, ওমর হীত হিটলু, মেহেদী হাসান তালুকদার এবং আরও ৬১ জন ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫৯৫টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে প্রায় ১,২১২ কোটি টাকা জমা এবং প্রায় ১,২০৭ কোটি টাকা উত্তোলনের নজির রয়েছে।
অর্থ লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, এই হিসাবগুলোর সঙ্গে নিম্নলিখিত অপরাধগুলো জড়িত:
অনলাইন প্রতারণা ও জুয়া
অনলাইন গেমিং ও বেটিং
হুন্ডি বা দেশি–বিদেশি মুদ্রা পাচার
ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয়-বিক্রয়
শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচার
এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে আদালত বিবেচনা করেছে।
| ব্যক্তির নাম / প্রতিষ্ঠান | হিসাব সংখ্যা | জমা টাকার পরিমাণ (কোটি টাকা) | উত্তোলন (কোটি টাকা) | মূল অভিযোগ |
|---|---|---|---|---|
| শেখ মো. ওয়াজিহ উদ্দিন | ৫ | ০.৫১ | ০ | অনলাইন প্রতারণা |
| এসএম জুনাইদুল হক ও সহযোগী | ৫৯৫ | ১,২১২ | ১,২০৭ | জুয়া, হুন্ডি, ক্রিপ্টো |
| অন্যান্য ৬১ জন ব্যক্তি | অন্তর্ভুক্ত | অন্তর্ভুক্ত | অন্তর্ভুক্ত | অনলাইন প্রতারণা ও লেনদেন |
আদালতের এই পদক্ষেপ সাইবার অপরাধ দমন ও অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, এই ধরনের অর্থ লেনদেনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
মোট কথায়, ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের সিদ্ধান্ত দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।