খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সংগীত জগতে ‘মিথ্যার অভিযোগ’ কেটে আট বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের আজ সোমবারের রায়ে, বিদেশি মদ নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আসিফ এবং তার পরিবার শান্তি ফিরে পেয়েছেন।
ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আয়েশা আক্তার মৌসুমী রায়ে আসিফকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসিফ নিজেও। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ কুমার দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার পর আসিফ আকবর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এটি একটি মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ আট বছর ধরে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হয়েছি। আমি কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি, রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাইনি, শুধু ন্যায়বিচার চেয়েছি। আজ সেই ন্যায়বিচার আমার পেয়েছি, তাই খুবই খুশি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি একজন আইনজীবীর সন্তান। জন্ম থেকেই আদালতের নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। তাই এই দীর্ঘ সময়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলিনি। আজকের রায় আমার ও আমার পরিবারের জন্য আনন্দের। যারা আমাকে ভালোবাসে—আমার ভক্ত, বন্ধু ও পরিবার—তাদেরও এই মুক্তির অনুভূতি বুঝতে পারবে।”
মামলার ইতিহাস এবং তদন্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| তারিখ | ঘটনা | মন্তব্য/বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ২০১৮ সালের ৬ জুন | আসিফ আকবরের অফিস থেকে চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার | আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করে |
| ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই | তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের | সিআইডি সাইবার তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার দায়ের করেন |
| ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর | অভিযোগপত্র দাখিল | আদালতে মামলার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু |
| ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর | আদালত অভিযোগ গঠন | বিচার শুরুর আদেশ দেন |
| ২০২৬ সালের ৯ মার্চ | রায় ঘোষণার দিন | আসিফকে খালাস দেওয়া হয় |
মামলার প্রক্রিয়ায় তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আদালত সকল প্রমাণের পর্যালোচনা শেষে খালাসের রায় দেন। এই দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষ হওয়ায় আসিফ আকবর এবং তার পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
এ ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও ধৈর্যের মাধ্যমে সত্যিকারের ন্যায়বিচার অর্জন সম্ভব। আসিফ আকবরের খালাস শুধু তার জন্যই নয়, বরং তার ভক্ত ও সাধারণ জনগণের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে মনে রাখা হবে।
মাঠে এবং মঞ্চে নিয়মিত উপস্থিতি রেখে, তিনি তার শিল্পী জীবনকে শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় এগিয়ে নিয়ে যাবার আশা প্রকাশ করেছেন।