বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বৃহস্পতিবার পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে কোনো সরকারি মন্ত্রণালয় বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে তদবির করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই ধরনের আচরণ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সরকারি কাজকর্মের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে।
আইজিপির স্বাক্ষরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সোমবার জারি করা এই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ পুলিশের কিছু কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পদোন্নতি, বদলি ও অন্যান্য সুবিধা আদায়ের জন্য তদবির করছেন। সম্প্রতি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিব্রত হচ্ছেন এবং পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।”
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারক এবং পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার মাধ্যমে সব ইউনিট এবং জেলার পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু একই ঘটনা পুনরায় ঘটার কারণে এই বার্তাটি পুনঃপ্রচার করা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
| বিষয় | নির্দেশনা |
|---|---|
| কর্মস্থল ত্যাগ | কোনো পুলিশ সদস্যই অনুমতি ছাড়া অফিস ত্যাগ করতে পারবে না |
| তদবির | পদোন্নতি, বদলি বা অন্যান্য সুবিধা আদায়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে যাওয়া বন্ধ রাখতে হবে |
| প্রশাসনিক শৃঙ্খলা | অফিস চলাকালীন নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক |
| দায়িত্ব | সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে না |
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র, সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, “অফিস চলাকালীন অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি মন্ত্রণালয় বা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অবস্থান করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তাই নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কিছু কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পদোন্নতি ও বদলির জন্য তদবির করছেন। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সাবেক কমিশনারকে নানা অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিন্টো রোড এলাকা থেকে বিশেষ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট এনায়েত করিম চৌধুরী ওরফে মাসুদ করিম (৫৫) গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার গাড়িতে সাবেক ওই কমিশনারের দেহরক্ষী ছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তর ওই কর্মকর্তাকে ডিএমপি কমিশনার করার সুপারিশ করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুপারিশটি ফেরত পাঠিয়েছে। এই ঘটনা আরও প্রমাণ করে, অনুমতি ছাড়া তদবির করার ফলে পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
মোটামুটি, এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো সরকারি কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা, যাতে অনুমতি ছাড়া তদবির ও অফিস ত্যাগের কোনো সুযোগ না থাকে।