খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার রাজার কলতা এলাকায় অবৈধভাবে ডিজেল মজুত রাখার অভিযোগে জামাতা নয়ন হোসেন (২৮)কে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নয়ন হোসেন স্থানীয় গালা ইউনিয়নের রাজার কলতা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আসাদুজ্জামান।
অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মানিকগঞ্জের সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেল এবং পেট্রোলের সরবরাহ সীমিত হয়ে গেছে। অনেকে এই সংকটকে সুযোগ বানিয়ে জ্বালানি তেল বিশেষ করে ডিজেল অবৈধভাবে মজুত করছেন এবং বাজারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে হরিরামপুরের রাজার কলতা এলাকায় নয়ন হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে মোট ২০টি তেলের ড্রামের মধ্যে ৮০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে মজুত পাওয়া যায়। অভিযান শেষে নয়নকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নয়ন হোসেন জানান, তাঁর শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বাল্লা ইউনিয়নের ভাদিয়াখোলা এলাকার জ্বালানি তেলের ডিলার। শ্বশুরের দেওয়া ডিজেল তিনি নিজের বাড়িতে এনে মজুত রাখার পাশাপাশি বিক্রি করতেন।
মো. আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, “শ্বশুরের ডিজেল মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছিল। এসব তেল বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আমরা এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানকারী সংস্থা | জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয় |
| অভিযানকারীর নাম | মো. আসাদুজ্জামান (সহকারী পরিচালক, চলতি দায়িত্ব) |
| অভিযুক্তের নাম | নয়ন হোসেন (২৮) |
| বাড়ির স্থান | রাজার কলতা, গালা ইউনিয়ন, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ |
| তেল মজুত | ৮০ লিটার ডিজেল |
| ড্রামের সংখ্যা | ২০টি |
| জরিমানার পরিমাণ | ৫,০০০ টাকা |
| মূল সরবরাহকারী | রফিকুল ইসলাম (শ্বশুর), ভাদিয়াখোলা, বাল্লা ইউনিয়ন |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অনিয়ম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানিকগঞ্জে চলমান তেলের ঘাটতি এবং অবৈধ মজুত নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অধিদপ্তরের এই কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, শ্বশুর–জামাতার মধ্যে তৈরি জ্বালানি চক্রে সাধারণ ভোক্তার উপর কৃত্রিম দামের চাপ তৈরি হচ্ছে। আইন প্রণয়ন ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে এই অবৈধ চক্র ভাঙা গেলে তেলের সঠিক সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে।