খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্চ মাসে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট এড়াতে সরকার নতুন উৎস থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতিটি জাহাজে গড়ে ২৫–৩০ হাজার টন তেল থাকায় মার্চে মোট ১৬টি জাহাজ আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে সময়সূচি পিছিয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকার চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা করছে, যার মধ্যে ভারত থেকেও বাড়তি সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জুন পর্যন্ত পরিশোধিত তেলের চুক্তি কার্যকর আছে। তবে অপরিশোধিত তেলের আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহকারীরা তেল পরিশোধনে সমস্যায় পড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে মে মাসে চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সরকারি পর্যায়ে জিটুজি, উন্মুক্ত দরপত্র বা সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে তেল আমদানি করে। মার্চে ১৬টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ আসছে না।
| তারিখ | আসা জাহাজের সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১১ মার্চ | ৬ | ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে |
| ১৩ মার্চ | ৩ | আসার কথা আছে |
| ৩১ মার্চ | ৭ | নিশ্চিত কিন্তু সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি |
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ইরানের হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই দিন পর ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে দিনে সীমিত সংখ্যক জাহাজই পার হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার ইরানকে নিরাপদ পরিবহনের জন্য অনুরোধ করেছে এবং ইরান আশ্বস্ত করেছে যে বাধা দেওয়া হবে না।
আতঙ্কে তেলের চাহিদা দ্বিগুণ হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। মোটরসাইকেল ও গাড়িতে তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কূটনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির জন্য সরবরাহ সীমা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মার্চে সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। এপ্রিল ও মে মাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত থেকে তেলের বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে।
ভারত থেকে ডিজেল পাইপলাইনে আনার জন্য ২০১৭ সালে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আসার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ৬০ হাজার টনও প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিবার ৫ হাজার টন করে ডিজেল সরবরাহ হয়।
| উৎস | পরিমাণ (টন) | সরবরাহ মাধ্যম |
|---|---|---|
| নুমালিগড় রিফাইনারি | ১,২০,০০০ | পাইপলাইন |
| অতিরিক্ত প্রস্তাব | ৬০,০০০ | পাইপলাইন |
| আইওসিএল | ১,০৫,০০০ | সমুদ্রপথ |
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেল পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে। ভারতের পাইপলাইন পরিবহনে প্রতি ব্যারেলের খরচ ৫.৫ ডলার, সমুদ্রপথে ৪৫–৭৬ ডলার পর্যন্ত। বিপিসি বর্তমানে বিভিন্ন প্রস্তাব যাচাই–বাছাই করছে। সরবরাহের ক্ষমতা, গুণগত মান ও মূল্য বিবেচনায় সেরা উৎস বাছাই করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন বিকল্প উৎস থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কম দামে পাওয়া গেলে ভালো, তবে নিম্নমানের তেল কেনা চলবে না। ভারত থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করলে খরচও কমবে।