খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরার সময় স্থানীয় জেলেরা দুই বস্তা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছেন। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে তেঁতুলিয়া মসজিদ এলাকার নদে জাল ফেলে মাছ ধরার সময় জেলেরা প্রথমে মুখে বাঁধা দুইটি বড় পাটের বস্তা দেখতে পান। এগুলোকে টেনে তোলার পর তারা জানতে পারেন, বস্তার মধ্যে রয়েছে সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন প্রকার ওষুধ।
স্থানীয়রা জানান, নদীতে জাল তোলার সময় বস্তাগুলো পানির নিচে দীর্ঘদিন পড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বস্তাগুলোর প্যাকেট পচনশীল না হওয়ায় ওষুধগুলো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, “যতদূর আমরা জানতে পেরেছি, বস্তার মধ্যে থাকা ওষুধগুলো ২০২৩ সালের। সম্ভবত কেউ তা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত ওষুধগুলো নিয়ে পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে যে কোনো সহযোগিতা করা হবে।”
গফরগাঁও থানার ওসি আ. স. ম. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
| ধরণ | পরিমাণ/বিস্তারিত | মন্তব্য |
|---|---|---|
| প্যারের ওষুধ | ২ বস্তা | সরকারি হাসপাতাল সরবরাহকৃত |
| উত্পাদন সাল | ২০২৩ | প্যাকেট সুরক্ষিত, নষ্ট হয়নি |
| অবস্থান | ব্রহ্মপুত্র নদ, তেঁতুলিয়া মসজিদ এলাকা | নদীতে ফেলে রাখা হয়েছিল সম্ভাব্যভাবে |
| উদ্ধারকর্তা | স্থানীয় জেলে ও পুলিশ | থানায় হস্তান্তরিত |
এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, সরকারি ওষুধ নদীতে ফেলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর কারণে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে তথ্য উন্মোচন করার চেষ্টা করছে।
এ ঘটনার তদন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার পাশাপাশি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ একসাথে কাজ করে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেবে।
মোট মিলিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত ওষুধগুলো কোনো মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবে আইনি ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে।