খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আজাদ আলী সরদার (৬২) হামলার শিকার হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা প্রায় দেড়টার দিকে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আজাদ আলী সরদার নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর নান্দিগ্রাম ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হামলার পর তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বুক, পিঠ ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যাওয়ার পথে শ্যামপুর গ্রামে কয়েকজন ব্যক্তি চেয়ারম্যানের পথরোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা আফাজসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা চেয়ারম্যানের কাছে নিজেদের অনুসারীদের মধ্যে বিতরণের জন্য ২৪০টি ভিজিএফ কার্ড দাবি করেন।
চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার জানান, তিনি সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি করে কার্ড বিতরণ করার কথা বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং তার সঙ্গে থাকা কিছু দাপ্তরিক কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন।
তিনি বলেন, “আমি নিয়ম মেনে কার্ড বিতরণের কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা জোর করে নির্দিষ্ট সংখ্যক কার্ড দাবি করেন। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়।” তিনি আরও জানান, হামলার সময় তার বুক, পিঠ ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি করার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, হামলার ঘটনা আংশিকভাবে স্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম। তবে তার দাবি, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে চেয়ারম্যান পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। সেই অভিযোগের জের ধরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেন, প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা না করে চেয়ারম্যান নিজের পছন্দমতো তালিকা তৈরি করছিলেন। স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
| নাম | বয়স | পরিচয় | অভিযোগ বা অবস্থান |
|---|---|---|---|
| আজাদ আলী সরদার | ৬২ | ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, নওপাড়া ইউনিয়ন | হামলার শিকার |
| রেজাউল ইসলাম | তথ্য অপ্রকাশিত | সাবেক ইউপি সদস্য, বিএনপি নেতা | হামলার অভিযোগ স্বীকার, পাল্টা অভিযোগ |
| আফাজ | তথ্য অপ্রকাশিত | স্থানীয় বিএনপি নেতা | পথরোধ ও হামলার অভিযোগ |
| আব্দুল হাকিম | তথ্য অপ্রকাশিত | বিএনপি নেতা | স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধের দাবি |
ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত সরকার পরিচালিত একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বিশেষ করে ঈদ বা বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। সাধারণত স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন পরিষদ দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় চেয়ারম্যান লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত প্রায়ই দেখা যায়। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা অনেক সময় বঞ্চিত হন। তাই এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।