খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরান ব্যাপক পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা কেবল সামরিক ঘাঁটি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ১৭টি মার্কিন স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে একাধিকবার আঘাত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত ছিল এবং সামরিক কৌশল পরিবর্তন করে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে। স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাই করা ভিডিও এবং সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস এই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা শনাক্ত করেছে।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোর সামরিক স্থাপনায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুঁড়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১১টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথম হামলা ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয়।
| লক্ষ্যবস্তু | দেশ | আক্রমণের ধরন | ক্ষতি ও প্রভাব | উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
|---|---|---|---|---|
| প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি | সৌদি আরব | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | ভবন ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত | এক মার্কিন সেনা নিহত |
| আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি | কুয়েত | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র | অন্তত ছয় ভবন ধ্বংস | এক মার্কিন সেনা নিহত |
| আল উদেইদ বিমানঘাঁটি | কাতার | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র | গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত | একাধিকবার হামলার লক্ষ্য |
| ক্যাম্প বুয়েরিং | কুয়েত | ক্ষেপণাস্ত্র | সামরিক ঘাঁটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | প্রথম দিনের হামলায় |
| নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর সদর দপ্তর | বাহরাইন | ক্ষেপণাস্ত্র | প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি | কংগ্রেসের পেন্টাগন মূল্যায়ন অনুযায়ী |
১ মার্চ কুয়েতে শুয়াইবা বন্দরে ড্রোন আঘাতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। একই দিনে সৌদি আরবে আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হন। এখন পর্যন্ত সাত মার্কিন সেনা নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৮ জন আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।
ইরান আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থার ওপর লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (THAAD) এবং অন্যান্য রাডার। ইরানি হামলায় কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানের রাডার ডোম এবং আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের এই কৌশল প্রমাণ করে, তারা সরাসরি সামরিক শক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিহত করতে পারবে না, কিন্তু লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করে কৌশলগত চাপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান এখনও তাদের উৎক্ষেপণ ক্ষমতার প্রায় ৫০% ধরে রেখেছে।
ইরানের হামলা কেবল সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, হোটেল, রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করছে। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও পেন্টাগনের বিমান হামলার কারণে হামলার সংখ্যা কমেছে, তবুও ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইরানের নেতৃত্ব এবং সামরিক কৌশল এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যা তাদের ‘টিকে থাকার’ সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান প্রতিদিন তাদের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করছে এবং এই লড়াইয়ে তারা সম্পূর্ণভাবে হার মেনেছে বলে দাবি করা যাচ্ছে না।
এভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কেবল সামরিক খেলার নয়, এটি কৌশল, তথ্য সংগ্রহ এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণের যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যেখানে ক্ষতি ও মানবিক প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।