খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ভোলার সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে তারাবির নামাজের সময় ঘরে একা থাকা এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম হালিমা বেগম (৬৫)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা মফিজুল সিকদারের স্ত্রী। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে নিহত পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। পরিবারটির দাবি, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের ছেলে হারুন অভিযোগ করে বলেন, তাদের প্রতিবেশী তোফাজ্জল ও তার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই তার মাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার রাতে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তারাবির নামাজ আদায় করতে স্থানীয় মসজিদে গেলে সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে হালিমা বেগমকে হত্যা করে।
হারুন আরও জানান, হত্যার পর ঘরের আলমারি ও অন্যান্য জিনিসপত্র তছনছ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, ঘর থেকে জমির দলিল, কিছু নগদ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে করে পরিবারটি ধারণা করছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লুটপাটের ঘটনাও জড়িত থাকতে পারে।
নিহতের স্বামী মফিজুল সিকদার বলেন, তিনি তারাবির নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর স্ত্রীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাটি দেখেই তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জড়ো হন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
খবর পেয়ে ভোলা সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”
এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনাটির প্রাথমিক তথ্য নিম্নরূপ—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | উত্তর দিঘলদী ইউনিয়ন, ভোলা সদর |
| ঘটনার সময় | ১১ মার্চ, রাত প্রায় ৯:৩০ |
| নিহত ব্যক্তি | হালিমা বেগম (৬৫) |
| স্বামী | মফিজুল সিকদার |
| সম্ভাব্য কারণ | জমিজমা নিয়ে বিরোধ |
| অভিযোগ | হত্যা ও লুটপাট |
| পুলিশের পদক্ষেপ | মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো |
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হলে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে।