খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকট ও ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে। ভারত সরকারও বাংলাদেশের এই অনুরোধ খতিয়ে দেখছে, তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার জানান, “বাংলাদেশের ডিজেল সরবরাহের অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের ডিজেলের প্রাপ্যতা এবং পরিশোধন সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।” তিনি আরও জানান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ অন্যান্য দেশ থেকেও ভারতের কাছে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অনুরোধ এসেছে, যা ভারত যাচাই করছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেন, “আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, কত পরিমাণ ডিজেল চাওয়া হয়েছে তা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে এবং বিষয়টি ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে ডিজেলের আমদানি ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে কুয়েতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বিপিসি দ্বারা আমদানি করা ডিজেলের ৯১ শতাংশই কুয়েত থেকে আসত, যেখানে ভারতের অংশ ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। তবে গত দুই দশকে উৎস দেশে বৈচিত্র্য এসেছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে বাংলাদেশের ডিজেল আমদানির প্রধান উৎস এবং সাম্প্রতিক প্রবণতা তুলে ধরা হলো:
| উৎস দেশ | ২০০৬-০৭ আমদানির অংশ (%) | ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাস (%) |
|---|---|---|
| কুয়েত | ৯১ | ২০ |
| ভারত | ৯ | ১৫ |
| সিঙ্গাপুর | – | ৪১ |
| মালয়েশিয়া | – | ২৪ |
| অন্যান্য (চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব) | – | ০০ |
চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ প্রায় ২৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি করেছে, যার প্রায় ৬৫ শতাংশ এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা এখন অনেকাংশে কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তি বাংলাদেশকে স্থিতিশীল জ্বালানি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামার সময়ে। ভারতও স্বরাষ্ট্রীয় চাহিদা পূরণ শেষে এই ধরনের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে।