খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। মৃত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খান-এর পরিবারের বসতঘর যুবদল নেতাদের হামলায় ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খান স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি জমিতে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন। পরে সরকার তাকে ওই জমিতে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত প্রদান করে। এর পর থেকে পরিবারটি সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিল।
তবে ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এবং তার সমর্থকরা ওই জমি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে আব্দুল গফফার-এর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরিবারের অস্বীকার করার পর রবিবার দুপুরে যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করা হয়, যা বর্তমানে সামাজিক ও স্থানীয় মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল গফফার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিন ও সিহাব মিয়া বাবার জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছিল। থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়েছে। আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন ফোনে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে যাইনি এবং এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”
জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাদী আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “ভাঙচুরের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। মুক্তিযোদ্ধার ছেলের সরকারি লিজকৃত ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে।”
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ ও সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২টা–২টা |
| ঘটনা স্থান | ইসলামপুর গ্রাম, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ |
| ভুক্তভোগী পরিবার | মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খানের পরিবার |
| হামলাকারী | নিজাম উদ্দিন (যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক), সিহাব মিয়া, মজনু মিয়া ও তাদের লোকজন |
| হামলার ধরন | বসতঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র লুটপাট |
| দাবি করা চাঁদার পরিমাণ | ৫ লাখ টাকা |
| ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ | প্রায় ২০ লাখ টাকা |
| পুলিশি পদক্ষেপ | ঘটনা তদন্ত, এসআই হাদী আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত |
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজ এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর এই হামলা দেশের জন্য ন্যায় ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা অপরিহার্য।