খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
সাইফান আবদুল্লাহ, যে আগামী জুনে দশ বছর পূর্ণ করবে, বাবার আকস্মিক মৃত্যু মানতে পারছে না। প্রতিনিয়ত তার মুখে ঘুরপাক খায় একটাই প্রশ্ন—‘বাবা ছাড়া ভালো লাগে না, বাবা কেন ফাঁকি দিল?’ ছোট ভাই শাদমান, মাত্র তিন বছর বয়সী, প্রতিদিন মুঠোফোনে বাবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা জানে না, সেই চাওয়ার দিনগুলো আর ফিরবে না।
সাইফান ও শাদমান কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান। গত ২৩ জানুয়ারি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির হাত ধরে শহিদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার হয়। এবার ঈদ তাদের জন্যে প্রথমবার বাবাহীন কেটে যাবে। দাদা, নানা, চাচা-মামাসহ আত্মীয়স্বজন উপহার দিয়েছেন, তবে সাইফানের অভিমান আরও গভীর—বাবা থাকলে তো ঈদের কেনাকাটার জন্য মার্কেটে নিয়ে যেতেন।
শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শাম্মী আকতার বলেন, “ছেলেদের সঙ্গে বাজার করতে পারছি না। বড় ছেলে কিছুটা বোঝলেও মানতে পারছে না, চিৎকার–চেঁচামেচি করছে।”
শহিদুল ইসলাম ছিলেন আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর। ২১ জানুয়ারি ঢাকার গুলশান থেকে বরিশাল ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ২৩ জানুয়ারি মাদারীপুরের শিবচর থানার পুলিশ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে, যা পরবর্তীতে শহিদুল ইসলামের হিসেবে শনাক্ত হয়।
তিনি বরিশালের আলেকান্দা এলাকায় পরিবারসহ থাকতেন এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর নিজের কৃষি খামার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
| ঘটনা | তারিখ ও সময় | স্থান |
|---|---|---|
| ঢাকায় পাওনা বুঝতে যাওয়া | ২০ জানুয়ারি | ছোট ভাই এরশাদ উল্লাহর বাসা, মহাখালী, ঢাকা |
| ব্যাংক কাজের জন্য গুলশান যাওয়া | ২১ জানুয়ারি | স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, গুলশান |
| নিখোঁজ হওয়া | ২১ জানুয়ারি দুপুর ১২টা | গুলশান থেকে |
| লাশ উদ্ধার | ২৩ জানুয়ারি | শিবচর, মাদারীপুর |
শহিদুলের ফোন ২১ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে বন্ধ ছিল। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের পক্ষ থেকে অনলাইন জিডি করা হয়। মাদারীপুর পুলিশ লাশের বিষয়ে যথাযথ তথ্য পরিবারকে জানায়নি; পরে ফেসবুক ভিডিও ও অন্যান্য মাধ্যমে তাঁরা জানেন।
শিবচর থানায় ২৭ জানুয়ারি মতিউর রহমান অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেন। শাম্মী আকতার অভিযোগ করেন, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে যথাযথ তৎপরতা দেখায়নি। শহিদুলকে সর্বশেষ তুরাগ পরিবহনের বাসে দেখা গেছে, এরপর আর কোনো তথ্য নেই।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলায় এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে ভিসেরা প্রতিবেদন আসেনি।
শহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই ছেলে পটুয়াখালীর শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন। বড় ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি। শাম্মী বলেন, “ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে আমি অজানা আশঙ্কায় দিন পার করছি। এখন শুধু জানতে চাই—আমার স্বামীকে কে, কেন, কীভাবে মারল।”
শহিদুল ইসলাম ও শাম্মী আকতারের বিবাহিত জীবন ১১ বছরের। শাম্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেছেন এবং শিক্ষকতা করেছেন। শহিদুলের মৃত্যুর পর পরিবারের জীবন যেন থমকে গেছে।