খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
সিডনির অস্ট্রেলিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একতরফা সেমিফাইনালে জাপান নারী জাতীয় ফুটবল দল দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪–১ গোলে পরাজিত করে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে জাপান, এবং ২৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোলের ব্যবধান তৈরি করে।
প্রথম ১৫ মিনিটে রিকো উয়েকি জাপানের জন্য প্রথম গোল করেন। এর ১০ মিনিট পর, ২৫ মিনিটে মাইকা হামানো দ্বিতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন। এই আগ্রাসী খেলায় দক্ষিণ কোরিয়া গোল করতে পারলেও দলের সমন্বয়ে জাপানের চাপের কাছে তা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জাপান তৃতীয় গোলটি ৭৫ মিনিটে সাকি কুমাগাইয়ের সৌজন্যে পূর্ণ করেন। এরপর ৭৮ মিনিটে কাং–চায়ে রিম দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে এক গোল শোধ করেন। কিন্তু মাত্র তিন মিনিট পর, ৮১ মিনিটে রেমিনা চিবা জাপানের চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করে স্কোরলাইনকে ৪–১ এ নিয়ে যান।
ফাইনালের আগে অস্ট্রেলিয়া প্রথম সেমিফাইনালে চীনের বিরুদ্ধে ২–১ গোলের জয়ে নিশ্চিত করেছিল। ফলে আগামী ২১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে দেখা যাবে জাপান বনাম অস্ট্রেলিয়া। এটি সর্বশেষ চার আসরের মধ্যে এই দুই দলের তৃতীয় ফাইনাল। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ফাইনালে জাপান এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল।
ফাইনাল বিবেচনায় রাখার মতো কিছু তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| দল | ফিফা র্যাঙ্কিং | সেমিফাইনাল স্কোর | গোলদাতারা |
|---|---|---|---|
| জাপান | 6 | 4 | ১) রিকো উয়েকি (15′), ২) মাইকা হামানো (25′), ৩) সাকি কুমাগাই (75′), ৪) রেমিনা চিবা (81′) |
| দক্ষিণ কোরিয়া | 19 | ১ | কাং–চায়ে রিম (78′) |
| অস্ট্রেলিয়া | 11 | ২ | গোলদাতারা: তথ্য অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য নয় |
| চীন | 17 | ১ | গোলদাতারা: তথ্য অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য নয় |
জাপান এই জয় নিশ্চিত করে সপ্তমবার এএফসি নারী এশিয়ান কাপ ফাইনালে পৌঁছেছে। প্রথম চার ফাইনালে হারের পর দেশটি সর্বশেষ দুবার শিরোপা জিতেছিল। দলটির শক্তিশালী আক্রমণ ও অভিজ্ঞতা এবারও তাদের ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি জয়ের প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, “জাপানের আধিপত্য, দ্রুত পাসিং এবং সঠিক সময়ের ফিনিশিংই তাদের ফাইনালে পৌঁছানোর মূল কারণ।” বিশেষ করে উয়েকি ও হামানোর শুরুতে গোল স্কোর করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয়টি প্রশংসনীয়।
এবারের ফাইনাল অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় সমর্থকের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাপানের লক্ষ্য হবে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো আবারও শিরোপা জয় করা, যেখানে পূর্ব এশিয়ার দেশ হিসেবে তারা দাপট দেখিয়েছে।
মোট বক্তব্যে, জাপানের এই সেমিফাইনাল জয় কেবল তাদের কৌশল ও দক্ষতার প্রমাণ নয়, বরং ফাইনালে শিরোপা প্রতিযোগিতার উত্তেজনাও তৈরি করেছে।