খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সময়টি কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জন্য চাপময় হয়ে উঠেছে। অ্যাশেজে লজ্জাজনক পরাজয় এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর থেকে সমালোচনার চাপ ক্রমেই বেড়েছে। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন লিয়াম লিভিংস্টোন, যিনি সরাসরি কোচ ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
লিভিংস্টোনের অভিযোগের মূল বিষয় হলো দল থেকে বাদ দেওয়া খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনীহা ও বাজে ব্যবহার। লিভিংস্টোন নিজে ইংল্যান্ডের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলেছেন। তবে প্রায় এক বছর ধরে কোনো ফরম্যাটের দলে সুযোগ পাননি তিনি। এতে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
২০২৫ সালের ভারত সফরে বাজে পারফরম্যান্স এবং হতাশাজনক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ইংল্যান্ড দলে তার জায়গা সংকুচিত হতে শুরু করে। লিভিংস্টোন জানিয়েছেন, এক ফোন কলেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি বলেছেন, “ম্যাককালামের সঙ্গে এক মিনিটেরও কম সময় কথা হয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বললেন নতুন কাউকে খেলাতে চান। রাইটিও (সাবেক নির্বাচক লুক রাইট) কোনো কথা বলেননি। ব্রুকি (হ্যারি ব্রুক) মাত্র একটি বার্তা পাঠিয়েছিল।”
লিভিংস্টোনের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কির ওপর। তিনি জানান, “রব বলেছিল, তোমার সঙ্গে কথা বলার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। এটি থেকেই দলের মনোভাব বোঝা যায়। বাদ পড়ার সময় রব কিছু বলেননি। একদিন ফোন করেছিলাম, তিনি ব্যস্ত বলে বললেন। এরপর থেকে কোনো যোগাযোগ হয়নি।”
নিচে লিভিংস্টোনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এবং সাম্প্রতিক সম্পর্কের পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জাতীয় দলের মোট ম্যাচ | ১০০+ | সব ফরম্যাট মিলিয়ে |
| সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খেলা | ২০২৫ | ভারত সফর ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর |
| বাদ দেওয়ার পদ্ধতি | ফোন কল | প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিয়ে |
| কোচের সঙ্গে যোগাযোগ | এক মিনিটেরও কম | লিভিংস্টোনের অভিযোগ, যথেষ্ট নয় |
| বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক | শঙ্কাপূর্ণ | ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি ব্যস্ত থাকার অজুহাত |
| বর্তমান অবস্থা | দলে নেই | আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা |
লিভিংস্টোনের এই অভিযোগ ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং খেলোয়াড়-বোর্ড সম্পর্কের দিকে নতুন আলো ফেলে। বিশেষ করে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থাপনার অভাব ফুটবল নয়, ক্রিকেটেও সমালোচনার জন্ম দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও খেলোয়াড়দের মনোবল রক্ষায় গুরুত্বপুর্ণ। লিভিংস্টোনের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে পুরোপুরি মূল্যায়ন না করা, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সমালোচনা ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে বোর্ড ও কোচিং স্টাফদের এখন আরও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে, লিভিংস্টোনের অভিযোগ ইংল্যান্ড ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় নতুন বিতর্ক উত্থাপন করেছে, যা আগামী সময় বোর্ড ও কোচিং স্ট্রাকচারের জন্য পরীক্ষা হিসেবে দেখা হবে।