খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে মুহাম্মদ আলী মর্তুজা (২২) নামের এক যুবক ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত মর্তুজা ওই ইউনিয়নের বদলকার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা আলী আকবরের ছেলে। ঘটনাটি পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মর্তুজা ওইদিন বিকালে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ শুরু করেন। লাইভ চলাকালীন সময়ে তিনি ঘরের ভেতরে বিমের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। ভিডিওটি লাইভ চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মর্তুজার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
ফটিকছড়ি থানার সহকারী পুলিশ ইনস্পেক্টর (এসআই) মাজহারুল ইসলাম জানান, “মর্তুজা ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা চেষ্টা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, মর্তুজা সম্প্রতি মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি মাঝে মাঝে মানসিকভাবে অসুস্থতার লক্ষণ দেখিয়েছেন। তবে আত্মহত্যার সরাসরি কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
নিচের টেবিলটিতে ঘটনা সম্পর্কিত মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃতের নাম | মুহাম্মদ আলী মর্তুজা |
| বয়স | ২২ বছর |
| স্থান | নানুপুর ইউনিয়ন, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম |
| পিতার নাম | আলী আকবর |
| ঘটনা তারিখ ও সময় | ১৯ মার্চ, বিকাল |
| ঘটনার ধরন | ফেসবুক লাইভে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা |
| পুলিশ ব্যবস্থা | লাশ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া চলমান |
স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচার হওয়ায় এলাকার মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সামাজিক মিডিয়ায় ব্যক্তিগত সমস্যার প্রকাশ কখনো কখনো গুরুতর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফটিকছড়ি থানার পক্ষ থেকে পরিবারকে মানসিক সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন যুব সমাজের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকাবাসী আতঙ্কিত এবং পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকগ্রস্ত। পুলিশের আশা, তদন্ত শেষে আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।