খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পরাশক্তি ফ্রান্স এবং ব্রাজিল আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে একটি হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। সম্প্রতি ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেইমার, ভিনিসিয়ুস এবং আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে এক কিছুটা জটিল প্রশ্নের সম্মুখীন হন। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমানের ব্রাজিল দল আসলে কার—রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের, নাকি দীর্ঘদিনের পিএসজি সতীর্থ নেইমারের? প্রশ্নটি কূটনৈতিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও এমবাপ্পে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে উত্তর দেন। তিনি হেসে বলেন:
“কী প্রশ্ন! আমার বিশ্বাস এটা দুজনেরই দল। ভিনিসিয়ুস অসাধারণ খেলোয়াড়, তবে জাতীয় দলে তাকে আরও এক ধাপ ওপরে উঠতে হবে। আর নেইমার তো নেইমারই, অনন্য এবং অসাধারণ।”
প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় বছর নেইমারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন এমবাপ্পে। যদিও তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক মুখরোচক খবর এসেছে, তবে এই সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পের কণ্ঠে ছিল শুধুই শ্রদ্ধা। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, অভিজ্ঞতার বিচারে নেইমার এখনো ব্রাজিলের মধ্যমণি।
ইনজুরির কারণে গত দুই বছর নেইমারের ফুটবল ক্যারিয়ার বেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সান্তোসের হয়ে খেললেও ফিটনেস ঘাটতির কারণে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতির স্কোয়াডে রাখেননি। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এটিই ব্রাজিলের শেষ দুটি প্রীতি ম্যাচ। এই স্কোয়াডে নেইমারের না থাকা মানেই বিশ্বকাপের মূল দলে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিশাল এক প্রশ্নচিহ্ন।
তবে এমবাপ্পে নেইমারকে নিয়ে আশাবাদী। তার মতে, বিশ্বকাপ হলো বিশ্বের সেরা তারকাদের মিলনমেলা, আর নেইমার ছাড়া সেই আসর অপূর্ণ। তিনি বলেন, “নেইমার এমন একজন খেলোয়াড় যে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি, সে ঠিকই বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নেবে।” তবে কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি যোগ করেন যে, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কোচের ওপরই নির্ভর করবে।
ফিফা র্যাঙ্কিং এবং সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় ফ্রান্স বর্তমানে ব্রাজিলের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে। নিচে দুই দলের সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
টেবিল: ফ্রান্স বনাম ব্রাজিল (পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থা)
| বিষয় | ফ্রান্স | ব্রাজিল |
| বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিং | ৩য় | ৫ ম |
| বিশ্বকাপ জয় | ২ বার (১৯৯৮, ২০১৮) | ৫ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২) |
| প্রধান কোচ | দিদিয়ের দেশম | কার্লো আনচেলত্তি |
| মূল তারকা | কিলিয়ান এমবাপ্পে | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র |
| মুখোমুখি বিশ্বকাপ জয় (গুরুত্বপূর্ণ) | ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬ | ১৯৫৮ (সেমিফাইনাল) |
ফ্রান্স বর্তমানে ছন্দে থাকলেও ব্রাজিলকে ছোট করে দেখতে নারাজ এমবাপ্পে। তিনি বিনয়ের সাথে জানান, যাদের জার্সিতে পাঁচটি তারকা রয়েছে (পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন), তাদের বিপক্ষে কখনোই কোনো দলকে ফেবারিট বলা অসম্ভব। ফুটবলের ইতিহাসে ব্রাজিলকে তিনি ‘শ্রেষ্ঠ জাতি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
রিয়াল মাদ্রিদে তার বর্তমান সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছিলেন, “ব্রাজিল ও ফ্রান্সের ম্যাচে ‘প্রীতি’ বলে কিছু নেই।” এই মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে এমবাপ্পে জানান, মাঠের ভেতরে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি, তবে মাঠের বাইরে তারা সবাই ভালো বন্ধু। ড্রেসিংরুমে ম্যাচ পরবর্তী আড্ডা ও হাসি-ঠাট্টা অটুট থাকবে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে তার ক্যারিয়ারে দুজন কিংবদন্তি কোচকে পেয়েছেন—ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম এবং রিয়ালের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তি (যিনি এখন ব্রাজিলের ডায়েরিতে)। দুই কোচের ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল দর্শন সম্পর্কে এমবাপ্পে বলেন, “দেশম ও কার্লো—উভয়েরই ফুটবলের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটা আমার জন্য শেখার এক দারুণ সুযোগ। দেশমের অধীনে খেলা আমার জন্য গর্বের, আর কার্লোর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে।”
আজ রাতের এই ম্যাচটি মূলত দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই হতে যাচ্ছে, যেখানে একদিকে থাকবে এমবাপ্পের গতি আর অন্যদিকে ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবল।