খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আসন্ন ২০২৬ সালের আসরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। গত বছরের ৪ জুন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা উদযাপনের সময় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদপিষ্ট দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুর পর বোর্ড এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যদিও টুর্নামেন্টের শেষ দিনে বড় পরিসরে সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২৮ মার্চ চিন্নাস্বামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগে কোনো ধরনের জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে না। আইপিএলের ফাইনালের দিন সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সমাপ্তি উদযাপিত হবে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এ বিষয়ে বলেন,
“গত বছরের ৪ জুন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে আইপিএল ২০২৬-এর উদ্বোধনী দিনে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হবে না। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষের প্রতি সম্মান জানাতে বোর্ড কোনো সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করছে না।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনা আইপিএলে নতুন নয়। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলায় প্রায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হওয়ার পর বিসিসিআইও ওই বছরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করেছিল। তখন বোর্ডের দায়িত্বে ছিল সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস। সেই সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিহতদের পরিবারকে প্রদান করা হয়েছিল।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| আসন্ন আসর | আইপিএল ২০২৬ |
| উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিলের কারণ | গত বছরের পদপিষ্ট দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু |
| প্রথম ম্যাচের তারিখ ও স্থান | ২৮ মার্চ ২০২৬, চিন্নাস্বামি স্টেডিয়াম, বেঙ্গালুরু |
| প্রথম ম্যাচের দল | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ |
| ফাইনালের অনুষ্ঠান | পরিকল্পিত, শেষ দিনে বড় পরিসরে আয়োজন |
| অতীত উদাহরণ | ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল |
| বোর্ডের বক্তব্য | দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠান বাতিল |
আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হলেও ফাইনালের দিন বড় পরিসরের সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সমাপ্তি উদযাপন করা হবে। বোর্ড আশা করছে, এটি নিখুঁত আয়োজনের মাধ্যমে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
আইপিএলের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, ক্রিকেট বোর্ড শুধুমাত্র বিনোদন বা খেলার দিকে নয়, দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্বকেও প্রাধান্য দিচ্ছে। গত বছরের দুর্ঘটনা এবং অতীতের উদাহরণ বোঝাচ্ছে, আইপিএলে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংবেদনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
এই আয়োজনবিহীন উদ্বোধনী টুর্নামেন্ট নতুন প্রজন্মের জন্য শোক ও শ্রদ্ধার বার্তা বহন করছে এবং আইপিএলের নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করছে।