বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে সাম্প্রতিক ওঠানামার পেছনে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে এবং দাম কিছুটা কমে আসে।
গত বৃহস্পতিবার বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা তখন আশঙ্কা করছিলেন, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করবে। ফলে একদিনেই তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। তবে শুক্রবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে এবং দাম আংশিকভাবে কমে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পতন সাময়িক হতে পারে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। ইরান বিশ্বে অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং দেশটির উৎপাদন বা রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
নিচে সাম্প্রতিক দুই দিনের তেলের দামের পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| দিন |
বাজার পরিস্থিতি |
দামের প্রবণতা |
| বৃহস্পতিবার |
উত্তেজনা বৃদ্ধি |
তীব্র বৃদ্ধি |
| শুক্রবার |
উত্তেজনা কিছুটা কমেছে |
আংশিক হ্রাস |
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানিনির্ভর শিল্প ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াবে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে এবং উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত হলে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী কয়েক মাসে দাম আরও কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা তাই এখন পরিস্থিতির প্রতিটি পরিবর্তনের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, তেলের বাজার বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে দামের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে।