খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
খাগড়াছড়ি, শুক্রবার – খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় এক নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পানছড়ি সদর ইউনিয়নের সূতকর্মা পাড়া এলাকায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের উপজেলা সমন্বয়ক নীতিদত্ত চাকমা কে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হামলার খবর স্থানীয় জনপদে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
হত্যার ঘটনায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এ হত্যার সঙ্গে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ সম্পৃক্ত। তবে ইউপিডিএফের (প্রসীত) মুখপাত্র অংগ্য মারমা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। আমাদের সংগঠন কোনোভাবে এতে জড়িত নয়। এটা স্বশাসিত সংঘর্ষ বা ব্যক্তিগত বৈরিতার ফল হতে পারে।”
স্থানীয় পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, গুলির ঘটনা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে। আহত নেতাকে স্থানীয় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই নীতিদত্ত চাকমার মৃত্যু ঘটে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু বলেন, “হত্যার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মরদেহটি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে মনে হচ্ছে। তবে সঠিক কারণ তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।”
| বিষয় | তথ্য/বিস্তারিত |
|---|---|
| স্থান | পানছড়ি সদর ইউনিয়ন, সূতকর্মা পাড়া, খাগড়াছড়ি |
| নিহত ব্যক্তি | নীতিদত্ত চাকমা, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) উপজেলা সমন্বয়ক |
| সময় ও তারিখ | শুক্রবার, সকাল ৮:৩০টা (আনুমানিক) |
| ঘটনার ধরন | গুলিবিদ্ধ হত্যা |
| অভিযোগকারি | ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী |
| অভিযোগ অস্বীকারকারী | ইউপিডিএফ (প্রসীত) মুখপাত্র অংগ্য মারমা |
| হাসপাতালে মৃত্যু | ঘটনার স্থান থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মারা যান |
| পুলিশের পদক্ষেপ | প্রাথমিক তদন্ত, ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম মোতায়েন, হত্যার রহস্য উদঘাটনে অভিযান শুরু |
| রাজনৈতিক প্রভাব | স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, দলীয় বিবাদ তীব্রতর হতে পারে |
নীতিদত্ত চাকমার হত্যাকাণ্ড খাগড়াছড়ি জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে এক গুরুতর সংকট সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং নিহতের পরিবারকে যথাযথ সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করতে পারে এবং প্রশাসনের জন্য এটি এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। খাগড়াছড়িতে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিরোধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে।