খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট এখন এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনুমোদিত মোট ৬৫ হাজার ৪৫৭টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ৩৪ হাজার ১৫৯টি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, যা শিক্ষার গুণগত মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই বিশাল শূন্যতার বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। গত বছরের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ১ হাজার ১২২টি পদের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। অথচ এই স্বল্পসংখ্যক পদের বিপরীতে প্রায় ৭ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছেন, যা দেশের শিক্ষিত বেকার সমস্যার গভীরতাকেই তুলে ধরে। গড় হিসেবে প্রতিটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ৬২৪ জন প্রার্থী—যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র প্রতিযোগিতা।
নিচে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট অনুমোদিত পদ | ৬৫,৪৫৭ |
| শূন্য পদ | ৩৪,১৫৯ |
| নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পদ | ১,১২২ |
| মোট আবেদনকারী | প্রায় ৭,০০,০০০ |
| প্রতি পদের বিপরীতে প্রার্থী | প্রায় ৬২৪ জন |
এদিকে, আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে, কিন্তু এখনো পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় হতাশা বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার আওতায় আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা—সব মিলিয়ে এটি একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। এর আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় এবার অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ১৬৯টি পদের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের ফলে সরাসরি নিয়োগের পদসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২টিতে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। ফলে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
পরীক্ষা পদ্ধতিও নির্ধারিত হয়েছে কঠোর মানদণ্ডে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৯০ নম্বরের লিখিত অংশে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে প্রার্থীরা ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুত এই নিয়োগ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণ না হলে শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচালনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।