খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমেনা আহমেদ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম এবং ত্যাগের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর একমাত্র কন্যা, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীকে রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
আমেনা আহমেদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের সহধর্মিণী। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন প্রগতিশীল আন্দোলনের সক্রিয় কণ্ঠস্বর। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন এবং ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতায় তিনি ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং পরবর্তীতে কার্যকরী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি দেশের কমিউনিস্ট ঘরানার রাজনীতি ও প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুতে ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাঁকে একজন সাহসী, নীতিনিষ্ঠ এবং আদর্শবান সংগঠক হিসেবে স্মরণ করছেন।
ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার বাদ মাগরিব তাঁর স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হবে। এরপর তাঁর স্বামী অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হবে।
আমেনা আহমেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো সংক্ষেপে নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সময়কাল | ভূমিকা ও কার্যক্রম |
|---|---|
| ১৯৫২ সাল | ভাষা আন্দোলনে ইডেন কলেজের সক্রিয় অংশগ্রহণ |
| ছাত্রজীবন | ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি |
| মুক্তিযুদ্ধকাল | প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টার সহধর্মিণী ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকা |
| পরবর্তী রাজনৈতিক জীবন | ন্যাপ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য |
| ২০০৯ ও ২০১৪ | জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য |
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমেনা আহমেদ ছিলেন নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংগ্রাম—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে ইতিহাসে স্থায়ী আসন দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান ঘটল, তবে তাঁর সংগ্রামী জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।