খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ফুটবল বিশ্ব উত্তেজনায় আচ্ছন্ন, কারণ দৃষ্টি এখন পুরোপুরি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দিকে। আগামী ৩১ মার্চ নির্ধারিত হবে শেষ ছয়টি দল, যারা স্থান পাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ৪৮ দলীয় এই আসরে। এরপর মাত্র দুই মাসের বেশি সময় বাকি থাকবে, যখন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই ভিন্ন মাত্রার বিশ্বকাপ। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি-তে।
এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণের কারণে ম্যাচের সংখ্যা, প্রতিযোগিতা এবং ভ্রমণের চাপ আগের যে কোনো আসরের তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে, এটি এমন সময়, যখন ফুটবলের ইতিহাসের সেরা প্রজন্মের শেষ অধ্যায় এবং নতুন প্রজন্মের উত্থান একসঙ্গে দেখার সুযোগ মিলবে।
এই বিশ্বকাপে বিশেষ নজর থাকবে কয়েকজন সুপারস্টারের ওপর:
| খেলোয়াড় | দেশ | বয়স | বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতা | লক্ষ্য ও ভূমিকা |
|---|---|---|---|---|
| লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | ৩৮ | ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, ৫টি আসরে ১৩ গোল | শিরোপা রক্ষা, গ্রুপ ‘জে’ নেতৃত্ব |
| ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | ৪১ | ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, ৮ গোল | শক্তিশালী নেতৃত্ব, গ্রুপ ‘কে’ |
| কিলিয়ান এমবাপে | ফ্রান্স | ২৭ | দুই বিশ্বকাপ, ১২ গোল | গোল্ডেন বুট, টানা তিনটি ফাইনাল |
| লামিনে ইয়ামাল | স্পেন | ১৮ | প্রথম বিশ্বকাপ | নতুন প্রজন্মের পোস্টারবয়, গোল্ডেন বল প্রত্যাশা |
| ভিনিসিয়ুস জুনিয়র | ব্রাজিল | ২৫ | দ্বিতীয় বিশ্বকাপ | গ্রুপ ‘সি’-তে দলীয় প্রধান ভরসা |
| হ্যারি কেইন | ইংল্যান্ড | ৩২ | ৮ গোল | গ্রুপ ‘এল’-এ শক্তিশালী নেতৃত্ব |
| ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক | যুক্তরাষ্ট্র | ২৭ | প্রথমবারের বিশ্বকাপ, ঘরোয়া খেলোয়াড় | গ্রুপ ‘ডি’-তে স্বাগতিকদের বড় ভরসা |
| আরলিং হালান্ড | নরওয়ে | ২২ | প্রথম বিশ্বকাপ | দ্রুততম ৫০ আন্তর্জাতিক গোল, গ্রুপ ‘আই’-এ চমক |
শুধু ফরোয়ার্ডদের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ এখনো বয়সকে হার মানিয়ে দলের মূল চালিকা শক্তি। ইংল্যান্ডের জুদ বেলিংহ্যামও দলের মেজাজ ও খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এই আসরে কয়েকটি ‘ডার্ক হর্স’ দলও বড় চমক দেখাতে পারে। মরক্কোর আক্রমণভাগে থাকবেন আশরাফ হাকিমি, মিশরের হয়ে মাঠে থাকবেন মোহাম্মদ সালাহ, আর স্বাগতিক মেক্সিকোর দায়িত্ব থাকবে রাউল হিমেনেজের কাঁধে।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে স্কোয়াড গভীরতা, খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং রোটেশন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে। একটি খারাপ ম্যাচই কোনো বড় দলকে বিদায় করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও নাটকীয় আসর—যেখানে মেসি-রোনালদোর শেষ অধ্যায় এবং নতুন তারকাদের উত্থান মিলিয়ে ফুটবলের এক অনন্য গল্প লেখা হবে। এই আসর কেবল খেলা নয়, বরং অভিজ্ঞতা বনাম নবীন প্রতিভার লড়াই, চমকপ্রদ গোল এবং উত্তেজনাপূর্ণ নাটকীয়তার মিশ্রণ উপহার দেবে বিশ্ববাসীকে।