খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
আইপিএলের এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি মূল্যে কেনা বিদেশি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। প্রায় ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সমান অবদান রাখবেন, এমন আশাই করেছিল দলটি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র; তার বোলিং না করা এখন দলের জন্য বড় কৌশলগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
রোববার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স-এর বিপক্ষে ম্যাচে কলকাতা প্রথমে ব্যাট করে ২২০ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে। এত বড় সংগ্রহ সাধারণত জয়ের জন্য যথেষ্ট বলে ধরা হয়। তবে কলকাতার বোলিং আক্রমণের দুর্বলতায় সেই রানও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মুম্বাই দলটি ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের সহজ জয় পায়।
| সূচক | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ | কলকাতা বনাম মুম্বাই |
| মাঠ | ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম |
| কলকাতার সংগ্রহ | ২২০ রান |
| ফলাফল | মুম্বাইয়ের জয় |
| ব্যবধান | ৬ উইকেট |
| অবশিষ্ট বল | ৫ |
এই ম্যাচে কলকাতার পেস আক্রমণে স্পষ্ট ঘাটতি চোখে পড়ে। বিশেষ করে একজন স্বীকৃত অলরাউন্ডার থাকা সত্ত্বেও তার বোলিং না করা দলের ভারসাম্য নষ্ট করেছে। ক্যামেরন গ্রিন দীর্ঘদিন ধরে পিঠের চোটে ভুগছিলেন। সেই কারণে তাকে সতর্কভাবে ব্যবহার করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন, তবে আপাতত তাকে বোলিং থেকে বিরত রাখা হয়েছে যাতে পুনরায় চোটের ঝুঁকি না থাকে।
ধারণা করা হচ্ছে, পুরোপুরি ফিট হয়ে বোলিংয়ে ফিরতে তার আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে তাকে শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে কলকাতাকে, যা দলের কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে।
কলকাতার অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অজিঙ্কা রাহানে ম্যাচ শেষে বলেন, “গ্রিন বোলিং শুরু করলে আমাদের দলীয় সমন্বয় আরও ভালো হবে। এখন আমাদের দেখতে হচ্ছে কারা অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে পারে।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, দলটি এখন বিকল্প পরিকল্পনায় এগোতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার আম্বাতি রাইডু। তিনি মনে করেন, একজন পেশাদার ক্রিকেটারকে আংশিকভাবে ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত নয়। তার ভাষায়, এতে দল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি খেলোয়াড়ের দক্ষতারও পূর্ণ ব্যবহার হয় না।
একইভাবে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক স্পিনার পিযূষ চাওলা। তিনি বলেন, অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় এমন পরিস্থিতি হলে সেই খেলোয়াড়কে একাদশে রাখাই হতো না। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত দলের পরিকল্পনায় অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করছে।
সবকিছু মিলিয়ে, ক্যামেরন গ্রিনের বোলিং না করা এখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে কঠিন ম্যাচগুলোতে দলটি কীভাবে এই ঘাটতি পূরণ করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।