খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারতের অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর এই দেশটিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ভারত সরকার।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রলের ওপর আবগারি শুল্ক লিটারপ্রতি ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি বিপণন কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতি কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠায় ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রলে প্রায় ২৪ রুপি এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ রুপি ক্ষতি হচ্ছিল, যা শুল্ক সমন্বয়ের মাধ্যমে আংশিকভাবে পূরণ করা হবে।
অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ১.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে একই সঙ্গে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর মোট লোকসানের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে সরকার শুধু কর কমিয়েই থেমে থাকেনি, বরং ডিজেল ও বিমান জ্বালানির (জেট ফুয়েল) রপ্তানির ওপর নতুন কর আরোপ করেছে। ডিজেল রপ্তানিতে লিটারপ্রতি ২১.৫ রুপি এবং বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে লিটারপ্রতি ২৯.৫ রুপি কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
| খাত | পূর্বের শুল্ক | নতুন শুল্ক | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| পেট্রল (লিটারপ্রতি) | ১৩ রুপি | ৩ রুপি | ১০ রুপি কমানো |
| ডিজেল (লিটারপ্রতি) | ১০ রুপি | ০ রুপি | সম্পূর্ণ প্রত্যাহার |
| ডিজেল রপ্তানি | প্রযোজ্য নয় | ২১.৫ রুপি | নতুন কর আরোপ |
| বিমান জ্বালানি | প্রযোজ্য নয় | ২৯.৫ রুপি | নতুন কর আরোপ |
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজস্ব ঘাটতি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দেশটির তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ দামের কারণে তেল কোম্পানিগুলো বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, এবং সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনবে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণও আশ্বস্ত করেছেন যে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না এবং নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যচাপ এড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদার জন্য বৈদেশিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক সংকটের প্রতিটি প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে দ্রুত প্রতিফলিত হয়।