খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে India-এর মুদ্রা রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে Israel ও United States-এর যৌথ হামলার পর Iran-এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই উত্তেজনা পুরো Middle East অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক মুদ্রা ও জ্বালানি বাজারে।
সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর এক পর্যায়ে নেমে আসে ৯৫ দশমিক ২২-এ, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দিনের শুরুতে রুপি কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে ছিল এবং লেনদেন শুরু হয় প্রায় ৯৩ দশমিক ৬২ স্তরে। স্বল্প সময়ের জন্য তা ৯৩ দশমিক ৫৭ পর্যন্ত উন্নতি করলেও দ্রুতই বিক্রয়চাপ বেড়ে যায়। দিনের শেষ ভাগে বড় ধরনের পতন ঘটে এবং রুপি ইতিহাসের নতুন নিম্নসীমায় পৌঁছে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ কাজ করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকট ও সংঘাতের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে পৌঁছায়। দ্বিতীয়ত, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক ডলার সূচক ১০০-এর ওপরে অবস্থান করছে। ফলে উদীয়মান বাজারগুলোর মুদ্রা, বিশেষ করে রুপি, চাপের মুখে পড়ে।
তৃতীয়ত, বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়িয়ে শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করছেন। এর ফলে ভারতের শেয়ারবাজারেও বড় ধস দেখা দেয়। একই দিনে প্রধান সূচকগুলো ব্যাপক পতন রেকর্ড করে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নিচে বাজার পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| সূচক/বিষয় | সর্বোচ্চ/শুরু | সর্বনিম্ন/শেষ | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| রুপি (ডলার প্রতি) | ৯৩.৬২ | ৯৫.২২ | উল্লেখযোগ্য পতন |
| শুরুর লেনদেন স্তর | ৯৩.৫৭ | — | অস্থিরতা বৃদ্ধি |
| সেনসেক্স | — | প্রায় ১,৭০০ পয়েন্ট কমে | বড় পতন |
| নিফটি | — | ৫০০ পয়েন্টের বেশি কমে | উল্লেখযোগ্য পতন |
| তেলের দাম (ব্রেন্ট) | — | প্রায় ১১৫ ডলার/ব্যারেল | ঊর্ধ্বমুখী চাপ |
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে রুপির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তবে আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ডলারের শক্ত অবস্থান উন্নয়নশীল বাজারগুলোর মুদ্রার স্থিতিশীলতা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু মুদ্রাবাজার নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির সামগ্রিক অনিশ্চয়তার একটি প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।