খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
এশিয়ান ফুটবলের বড় মঞ্চে বাংলাদেশের যাত্রা এবারও সফল হয়নি। এবারের এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে খেলায় হেরে বাংলাদেশের স্বপ্ন শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয় ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের পথ এখানেই থমকে গেল। এ ম্যাচ ছিল দলটির জন্য সান্ত্বনার জয় অর্জনের শেষ সুযোগ, কিন্তু রক্ষণভাগে সিঙ্গাপুরের দৃঢ় প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশি আক্রমণের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কারণে গোল করার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়নি।
ম্যাচ শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখিয়েছে। প্রথম আট মিনিটে উভয় দলই কর্নার সুযোগ পেলেও কোনো গোল করতে পারেনি। ১৫ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে হেডের সুযোগ পেলেন শমিত শোম, কিন্তু সফল হতে পারেননি। ১৮ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টের শটকে বাংলাদেশী গোলরক্ষক হামজা চৌধুরী ব্লক করে বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন।
তবে ধীরে ধীরে চাপ বেড়েছিল স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের। ৩১ মিনিটে প্রথম গোল আসে তাদের কাছ থেকে। গ্লেন কুয়েরা বাঁ প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যান এবং তার শটকে মিতুল মারমা রক্ষা করতে পারেন, কিন্তু পরে ফিরে আসা বল হ্যারিস স্টুয়ার্টের পায়ে গিয়ে জালে যায়। বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার তারিক কাজী ও শাকিল আহাদ তপু তাকে আটকাতে ব্যর্থ হন।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আক্রমণে উঠলেও গোল তুলতে পারলো না। ৫৯ মিনিটে ফাহমিদুল ইসলামের শট সহজেই সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক আটকান। ৬১ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা; ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে তুলে মাঠে নামানো হয় শাহরিয়ার ইমনকে। ৭২ মিনিটে আরও দুই পরিবর্তন আনা হয়; শেখ মোরসালিন ও ফাহমিদুলের জায়গায় নামানো হয় বিশ্বনাথ ঘোষ ও মিরাজুল ইসলামকে।
শেষের দিকে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে, তবে গোল পাওয়া যায়নি। ৭৫ মিনিটে সাদ উদ্দিনের পাসে হামজা ও বিশ্বনাথ হানা দেয়, কিন্তু শট পোস্টের বাইরে যায়। ৭৯ মিনিটে মিরাজুলের ক্রসেও গোল আসে না। অতিরিক্ত চার মিনিটেও বাংলাদেশের কোনো গোল সম্ভব হয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই হামজা ও পুরো দল হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ে।
নিচের সারণিতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ তারিখ ও স্থান | সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়াম, হো চি মিন সিটি |
| প্রতিদ্বন্দ্বী দল | সিঙ্গাপুর জাতীয় দল |
| বাংলাদেশ গোল | ০ |
| সিঙ্গাপুর গোল | ১ (৩১ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্ট) |
| বাংলাদেশি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ | ১৫ মিনিট, সাদ উদ্দিন; ৫৯ মিনিট, ফাহমিদুল ইসলাম |
| প্রধান পরিবর্তন | ৬১ মিনিট: ফয়সাল আহমেদ ফাহিম → শাহরিয়ার ইমন; ৭২ মিনিট: শেখ মোরসালিন ও ফাহমিদুল → বিশ্বনাথ ঘোষ ও মিরাজুল ইসলাম |
| সমর্থক উপস্থিতি | প্রবাসী বাংলাদেশি ৬,০০০ জন টিকিট সহ মোট ভক্ত সমর্থক |
ম্যাচের সময় বাংলাদেশি সমর্থকরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জোরে গলা দিয়ে দলের প্রতি উচ্ছ্বাস দেখান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের সংগ্রহ ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্টে শেষ হলো। এই ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, দলের রক্ষণভাগে দৃঢ়তা ও আক্রমণে কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে, যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।