খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নতুন যুগের দেখানো আলোর পথে হাঁটতে শুরু করেছে রাতুল নামে এক ক্ষুদে বিজ্ঞানী। করোনার সময় বেকার বসে না থেকে ঘরে বসে তথ্য প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে শুরু করে রোবটিক্স সিস্টেমে মানুষকে কি ভাবে সাহায্য করা যায়। ক্ষুদে বিজ্ঞানী রাতুলের দিনে দিনে বাড়ছে আবিষ্কারের সংখ্যা। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কারে সম্মানিতও হয়েছে সে। তাছাড়া বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দশম শ্রেণির এই ছাত্র। এখন তার গবেষণার বিষয়, স্মার্ট ইভিএম মেশিন। রাতুলের বর্তমানে উদ্ভাবিত এবং ব্যবহৃত ইভিএম মেশিনটি ২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত ইভিএম মেশিন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এগুলো একবার তৈরির পর আর কাস্টমাইজ করতে হয় না, ফলে এই মেশিনে কোনো প্রকার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা ভোট কারচুপির সুযোগ নেই। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম-ই কেবল পারে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে। সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা নিয়ে ভিন্ন প্রযুক্তিতে এটি ভিন্নভাবে উদ্ভাবিত। নতুন এই মেশিনটির উদ্ভাবকদের সঙ্গে আগের মেশিনের উদ্ভাবকদের কোনো সংযোগ নেই। এই ইভিএম মেশিনটি দিয়ে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ভোট প্রয়োগ করতে পারবে ভোটার রা। সেই সঙ্গে মেশিনটি অটো স্ক্যানার এর মাধ্যমে জাল ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কে জানিয়ে দিবে। ভোটারদের হাতের কালি পর্যন্ত অটো মেট্রিক আঙুলে ছাপ পড়ে যাবে। রাতুলের আবিষ্কার এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক খাত সহ নিরাপত্তা নিশ্চিত, তার রয়েছে রোবট যে রোবট টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেজ চিহ্নিত করে প্রবেশ করবার অনুমতি দেবে। প্রশ্ন করলে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। অফিস বা বাসা বাড়িতে আগুন লাগলে অটোমেটিকলি কল এবং এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পারবে। তার রয়েছে অন্ধদের জন্য চলা ফেরার লাঠি যে লাঠির সাহায্যে অন্ধ ব্যক্তিদের সঠিক পথ চিহ্নিত করবে। স্কুল পড়ুয়া ক্ষুদে বিজ্ঞানী কাজী নওশাদ হাসান রাতুল এলঙ্গী পাড়া এলাকার মোঃ মাজেদুল ইসলাম রাজুর ছেলে কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের ছাত্র। রাতুলের সহপাঠী সাদিক বলেন, আমাদের কাছে রাতুলের উদ্ভাবন একটি দারুণ দৃষ্টান্ত। তার সাফল্য অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমুখী করবে বলে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স নিয়ে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শামীম আহমেদ রিপন জানায়, পড়ালেখার পাশাপাশি রোবট নিয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছে। সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা অনেক খুশি। আমরা শিক্ষক হিসেবে গর্বিত। ভবিষ্যতে সে স্বপ্নের শিখরে পৌছাক সেই প্রত্যাশা করি।