খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রথম বাজেট প্রণয়নের প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য নীতি নির্দেশনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। “নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা” শীর্ষক এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফ প্রমুখ।
ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বাণিজ্য চুক্তির কারণে রাশিয়া থেকে কম মূল্যে জ্বালানি তেল আমদানি করতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হচ্ছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি বাজারে কমদামের তেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ, অর্থনীতি ও বিদেশনীতি এখন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষিতে দেশ তিন ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন:
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাজেটের জন্য অপেক্ষা না করে অবিলম্বে অর্থসংস্থানে উদ্যোগী হতে হবে। দেশের ধারদেনা বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপে থাকা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দুর্বলতা এবং খাদ্যের মূল্যস্ফীতি সমন্বিতভাবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল করেছে।
তিনি জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে সরকারকে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন: সরবরাহ বাড়াতে আমদানি সম্প্রসারণ, দাম কম রাখতে কর ও আবগারি শুল্ক কমানো এবং ভর্তুকি সুষমভাবে পুনর্বিন্যস্ত করা।
ভট্টাচার্য বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনার জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা উচিত, যা এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি কলকারখানা লাভজনক করার ওপর জোর দিতে হবে, না হলে বন্ধ কলকারখানাগুলো বেসরকারি খাতে ছাড়ার মাধ্যমে দায়দেনা পরিশোধ করা সম্ভব। সরকারের হাতে থাকা শেয়ারও বিক্রির মাধ্যমে শেয়ারবাজার চাঙা করা যায় এবং রাজস্ব সংকট কিছুটা কমানো সম্ভব।
রাজস্ব আয় নির্ধারণে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া, কর অবকাশ ও সুবিধা বাদ দেওয়া এবং করজাল বৃদ্ধি ও ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
নিম্নের সারণী দেশের সাম্প্রতিক আর্থিক পরিস্থিতি ও প্রণোদনার তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরছে:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব হারানো | ২,৭২,৮৫০ কোটি টাকা (জিডিপির ৬.৮৭%) |
| ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রণোদনা | ৩২,২৩০ কোটি টাকা (কৃষি, রপ্তানি, পাটপণ্য, প্রবাসী আয়, জিডিপির ০.৬০%) |
| জ্বালানি আমদানি বাধা | রাশিয়া থেকে কম মূল্যে তেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্র অনুমতি প্রয়োজন |
| মূল্যস্ফীতি | খাদ্য ও সাধারণ জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত |
| বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান | দুর্বলতা বজায়, বিশেষ করে বেসরকারি খাতে |
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ব্রিফিংয়ে অঙ্গীকার করেন যে, নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক ও বাজেট পরিকল্পনায় নীতি-নির্ভর, বাস্তবসম্মত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি জোর দেন, রাজস্ব সুষমীকরণ, সরকারি ব্যয় হ্রাস, শেয়ার ও সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং জ্বালানি আমদানি নীতির বাস্তবায়ন নতুন সরকারের বাজেটকে সফল করার মূল চাবিকাঠি।