খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির পর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এবার টানা তিন দিনের ছুটিতে যাবে। আগামী রবিবার, ৫ এপ্রিল, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ঈশ্বরপুত্র যিশু মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হন এবং মানুষের পাপ থেকে মুক্তি দেন। এর আগে, পুণ্য শুক্রবার বা গুড ফ্রাইডে, যিশুকে অন্যায়ভাবে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। মৃত্যুর তৃতীয় দিন, অর্থাৎ রবিবার, তিনি মৃত্যুর জয়লাভ করেন। তাই এই রবিবারকে ইস্টার সানডে হিসেবে উদযাপন করা হয়।
সাপ্তাহিক ছুটির হিসাব অনুযায়ী, ইস্টার সানডের আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ও শনিবার (৪ এপ্রিল) সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টানা তিন দিনের জন্য বন্ধ থাকবে।
এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ-প্রযুক্তি ব্যবস্থার চাপের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ত্রি-মুখী ক্লাস পদ্ধতি গ্রহণ করছে। ৩১ মার্চ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে ছয় দিনের ক্লাসের মধ্যে তিন দিন অনলাইনে এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস হবে।
নিচের টেবিলে নতুন ছুটির এবং ক্লাসের পরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | দিন | ছুটি/ক্লাস | বিবরণ |
|---|---|---|---|
| ৩ এপ্রিল | শুক্রবার | ছুটি | সাপ্তাহিক ছুটি |
| ৪ এপ্রিল | শনিবার | ছুটি | সাপ্তাহিক ছুটি |
| ৫ এপ্রিল | রবিবার | ছুটি | ইস্টার সানডে উপলক্ষে জাতীয় ছুটি |
| ৬ এপ্রিল | সোমবার | অনলাইন ক্লাস | প্রথম দিন অনলাইনে ক্লাস |
| ৭ এপ্রিল | মঙ্গলবার | অনলাইন ক্লাস | দ্বিতীয় দিন অনলাইনে ক্লাস |
| ৮ এপ্রিল | বুধবার | অনলাইন ক্লাস | তৃতীয় দিন অনলাইনে ক্লাস |
| ৯ এপ্রিল | বৃহস্পতিবার | সশরীরে ক্লাস | চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর সরাসরি ক্লাস |
| ১০ এপ্রিল | শুক্রবার | সশরীরে ক্লাস | নিয়মিত ক্লাস শুরু |
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা সংশোধন করা হবে। অনলাইন ক্লাসের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে, টানা তিন দিনের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস শুরু করতে পারবেন।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন ও পরিবারসহ সময় কাটানোর সুযোগ পাবে।
এই ত্রৈমাসিক ছুটি ও ক্লাস পরিকল্পনা শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন নমনীয়তার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করবে।