খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা সম্প্রতি একটি টক শোতে একটি বক্তব্য রেখেছেন, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে আপনি পরাজিত হলে মারা যাবেন, আর যদি বিজয়ী হোন তবে আপনাকে পরাজিতদের ধ্বংস করে দিতে হবে।’
তার এই মন্তব্য রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। এরপর থেকেই এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
গোলাম মোর্তোজা তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘পরাজিতকে রেখে আপনি নিজেও টিকে থাকবেন—এটাকে গণঅভ্যুত্থান বলা যায় না।’ তিনি ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,‘সেখানে বিজয়ী শক্তি ক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু দেশের মানুষ মনে করে, এই সরকার খুব দুর্বল এবং তারা পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে না।’
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘হাসিনা ছাত্র-জনতাকে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। এই জায়গায় ছাত্র-জনতাকে তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দেওয়ার দরকার ছিল। ধানমণ্ডি-৩২-এ তারা সেই প্রমাণ দিয়েছে, কারণ তারা গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ী শক্তি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘শেখ হাসিনা ৩২ নম্বরকে কেন্দ্র করে ফিরতে চায় এবং বিপ্লবীদের তাদের পরিবারসহ হত্যা করতে চায়। যারা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের কীভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা আমরা দেখেছি।’
গোলাম মোর্তোজা তার বক্তব্যে ইসলাম ধর্মের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি বলেন, ‘এত সুশীল আলোচনা করলে চলবে না যে, তারা কেন এটা করল? তারা এটা করেছে নিজেদের টিকে থাকার জন্য। ইসলাম ধর্মেও নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিরোধ করার কথা বলা হয়েছে। ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলে প্রমাণ করেছে যে, চাইলেই কেউ তাদের হত্যা করতে পারবে না।’
জানা যায়, গোলাম মোর্তোজা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে একাধিক পত্রিকার প্রতিবেদক, সম্পাদক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি মিডিয়া স্টার গ্রুপের পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ২০০০’, ইমপ্রেস গ্রুপের পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’ এবং দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলার সম্পাদক ছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির ও জঙ্গিবাদ এবং তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালিখি করেন। পরবর্তীতে শাসক আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এর এক পর্যায়ে বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হোন। এরই ধারাবাহিতায় উনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি বায়োগ্রাফি রচনা করেন। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে এর পক্ষে ইলেক্ট্রনিক প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেন গোলাম মোর্তোজা।
খবরওয়ালা/আরডি