খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে দারুণ লড়াইয়ের পর নেপালকে ১–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল। ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেছেন মোহাম্মদ মানিক। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় কোচ মার্ক কক্সের শিষ্যরা।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল। এর আগে ২০২২ সালের আসরে ভারতকে ফাইনালে না হারাতে পারলেও রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২৪ সালে নেপালকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল লাল–সবুজের যুবারা। ফলে এবারের আসরেও শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন আরও জোরালো হলো।
মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের আক্রমণ ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই প্রান্ত দিয়ে একের পর এক ক্রস তৈরি করে নেপালের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে তারা। ম্যাচের ১১ মিনিটে ডান দিক থেকে মোরশেদ আলীর নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করেন মোহাম্মদ মানিক। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
গোল হজমের পর নেপাল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা। ১২ মিনিটের মাথায় নেপালের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে রোনান সুলিভান আরেকটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা সতর্ক কৌশল নেয়। বল দখলে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে তারা। তবে নেপালও শেষ দিকে চাপ বাড়ায়। ৮৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেক্লান সুলিভান মাঠে নামেন, যা দলের আক্রমণে নতুন গতি আনে।
ম্যাচের শেষ দিকে নেপাল একাধিকবার বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করলেও গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ একটি নিশ্চিত সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি সুমন সরেন।
| সময় (মিনিট) | ঘটনা |
|---|---|
| ১১ মিনিট | মোরশেদ আলীর ক্রস থেকে মানিকের হেডে গোল |
| ১২ মিনিট | রোনানের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল |
| ৩৬ মিনিট | রোনানের শট নেপালের গোলরক্ষক রুখে দেন |
| ৫২ মিনিট | মানিক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন |
| ৫৬ মিনিট | নাজমুলের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট |
| ৮৭ মিনিট | ডেক্লান সুলিভানের অভিষেক |
| ৯৬ মিনিট | সুমনের সুযোগ হাতছাড়া |
আগামী ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ, যেখানে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের সঙ্গে। এখন পুরো দলের লক্ষ্য একটাই—শিরোপা জিতে অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য আরও দৃঢ় করা।