খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তরুণীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল–এর জামিন বাতিল করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এ সিদ্ধান্ত দেওয়ার শুনানি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে জানান, নোবেল এর আগে আদালতের দেওয়া আপোষের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। মামলার পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল, যেহেতু আসামি শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, তাই তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হোক। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে নোবেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত আপোষের শর্তে নোবেলকে অস্থায়ী জামিন প্রদান করেন। ওই জামিনের মেয়াদ ছিল ২ এপ্রিল পর্যন্ত।
মামলার নথি অনুযায়ী, নোবেল আনাননিয়া শবনম রোজ নামে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ১৩,১৮,৫৪০ টাকা অর্থ আত্মসাত করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট মামলা দায়েরের পর আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে ৩ ফেব্রুয়ারি নোবেল, তার মা ও স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। নোবেল ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন।
নোবেলের বিরুদ্ধে এটি একাধিক মামলার অংশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে ডেমরা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই মামলায় বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর তিনি জামিন পান।
| মামলা সংক্রান্ত তথ্য | বিস্তারিত |
|---|---|
| অভিযোগকারীর নাম | আনাননিয়া শবনম রোজ |
| অর্থ আত্মসাতের সময়কাল | ২৫ আগস্ট ২০২৩ – জুন ২০২৫ |
| আত্মসাৎকৃত অর্থ | ১৩,১৮,৫৪০ টাকা |
| জামিন প্রাপ্তি | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (অস্থায়ী) |
| জামিন বাতিল ও কারাগারে পাঠানো | ২ এপ্রিল ২০২৫ |
| গ্রেপ্তারি তারিখ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ |
| মামলা সংখ্যা | একাধিক, সর্বশেষ ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ |
মামলার ধারাবাহিকতায় আদালতের শর্ত ভঙ্গ করা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও পুনরায় কারাগারে পাঠানোর ঘটনা নোবেল সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী।