খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
যশোরের কেশবপুরে এক দুর্ধর্ষ ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১ এপ্রিল বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের ওপর এই সংগঠিত হামলায় একজন উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) মোট তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিজলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম তিনটি ভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামি। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সে এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে সফলভাবে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তবে আটকের পরপরই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করতে আসামি জাহাঙ্গীর নিজেই নিজের মাথা দিয়ে দেয়ালে বা কোনো শক্ত বস্তুতে আঘাত করে নিজেকে রক্তাক্ত করার চেষ্টা করে। এই সুযোগে একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্থানীয় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে এলাকায় ঘোষণা ছড়িয়ে দেয় যে, “পুলিশ জাহাঙ্গীরকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলছে।”
মুহূর্তের মধ্যে এই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য হিজলডাঙ্গা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন গ্রামবাসী পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অতর্কিত এই হামলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার সুযোগ পাওয়ার আগেই গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশকে মারধর করে হাতকড়া পরা অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিচে হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের তালিকা ও তাদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো:
আহত পুলিশ সদস্যদের বিবরণ
| নাম | পদবি | আঘাতের ধরণ | বর্তমান অবস্থা |
| আসমত আলী | উপ-পরিদর্শক (এসআই) | শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত | প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিশ্রামে |
| শহিদুল ইসলাম | কনস্টেবল | শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম | উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন |
| হাবিবুল্লাহ | কনস্টেবল | সামান্য আঘাত ও লাঞ্ছিত | প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন |
ঘটনার পর পরই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য চিরুনি অভিযান শুরু হয়। এই হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অবশেষে ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় যশোর ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন ‘ঘোষরা বিল’ এলাকা থেকে পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, গভীর রাতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের অপব্যবহার করে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত এবং উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে কোনো ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান।