জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ চেইনে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজারে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন উৎস থেকে তেল আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তানকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব দেশ থেকে তেল আমদানির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় জ্বালানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি বাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে। একাধিক উৎস থেকে তেল আমদানি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাব কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি বিভাজন হওয়ায় সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কাও কমে আসবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং পরিবহন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিচে সম্ভাব্য তেল আমদানির উৎস এবং তাদের ভূমিকা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| দেশ |
সম্ভাব্য ভূমিকা |
গুরুত্ব |
| মালয়েশিয়া |
অপরিশোধিত তেল সরবরাহ |
আঞ্চলিক নিকটবর্তী উৎস হিসেবে দ্রুত সরবরাহের সম্ভাবনা |
| ইন্দোনেশিয়া |
জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস |
বৈচিত্র্যময় জ্বালানি বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি |
| কাজাখস্তান |
মধ্য এশীয় তেল সরবরাহ |
দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সুযোগ ও স্থিতিশীলতা |
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি কৌশল সমন্বয় করা হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী সরবরাহ কৌশলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।