ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ শুক্রবার এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্রটি জানায়, গত বুধবার একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের সত্যতা বা বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এই প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষভাবে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে। তবে ইরান প্রস্তাবের কোনো লিখিত উত্তর না দিয়ে, বরং হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি করে মাঠে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ শুরু করলে, জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত বহু সাধারণ ও সামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
নিম্নে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও হামলার পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যসূচি দেওয়া হলো:
| তারিখ |
ঘটনা |
ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন হামলা |
নিহতের সংখ্যা |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি |
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আক্রমণ শুরু |
– |
– |
| ১ মার্চ |
ইরানের পাল্টা হামলা (ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র) |
৫ |
অজানা |
| ৩ মার্চ |
কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে মার্কিন সামরিক গুদামে হামলা |
৩ |
২ |
| ৫ মার্চ |
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠায় |
– |
– |
| ৬ মার্চ |
ইরান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান |
৪ |
১ |
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ফলে সংঘর্ষ আরও তীব্র হতে পারে এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা প্রয়োজন। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলোরও এই উত্তেজনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
এ পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য জরুরি ভূমিকা গ্রহণ অপরিহার্য, যাতে নতুন কোনো মানবিক ও সামরিক বিপর্যয় এড়ানো যায়।
সর্বশেষ পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সংঘাত আরও জটিল রূপ নিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন ত্বরান্বিত হয়েছে।