খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩২ | ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সময়সীমা নিয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে দোকান ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টার পরিবর্তে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে আগে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নতুন করে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা প্রথমে সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে তারা বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেন। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানান, প্রয়োজনে তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টা থেকে দোকান খোলা শুরু করতে রাজি আছেন, তবে সন্ধ্যার সময় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দোকানপাট ও শপিং মল এখন থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জীবনজীবিকা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই এক ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রিসভার পূর্ববর্তী বৈঠকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী মহল কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ দৈনন্দিন বিক্রয় ও ক্রেতা প্রবাহের একটি বড় অংশ সাধারণত সন্ধ্যার পরেই ঘটে থাকে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য অর্জনে সময় ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা আচরণে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
নিচে সময়সূচি পরিবর্তনের একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত | নতুন সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|
| দোকান খোলার সময় | সকাল ৯টা | সকাল ৯টা (প্রস্তাব ছিল ১১টা) |
| দোকান বন্ধের সময় | সন্ধ্যা ৬টা | সন্ধ্যা ৭টা |
| ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব | সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত | আংশিকভাবে গৃহীত |
| সিদ্ধান্তের ভিত্তি | জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় | পুনর্বিবেচনা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা |
সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবেই এই সময়সীমা পুনর্নির্ধারণকে দেখা হচ্ছে। সরকার ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।